মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
মুহাম্মদ আব্দুল বাছির সরদার:
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলের ১২ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী সুনামগঞ্জ-৩ আসনে পাঁচ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জ-১ ও সুনামগঞ্জ-২ আসনে একজন করে, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে দুইজন এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনে তিনজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের এক-অষ্টমাংশ (১২.৫ শতাংশ) ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রতিটি প্রার্থীকে ইসির অনুকূলে ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত ভোটের সীমা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনে নেজামে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার (বই) প্রতীকে ১ হাজার ১৮৪ ভোট, সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) প্রার্থী এডভোকেট নিরঞ্জন দাস খোকন (কাস্তে) প্রতীকে ১ হাজার ২৩২ ভোট, সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে খেলাফত মজলিসের এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী (রিকসা) প্রতীকে ১৪ হাজার ২০৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ (তুষার) (টেবিল ঘড়ি) প্রতীকে ২৩৭ ভোট, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ (দেওয়াল ঘড়ি) প্রতীকে ৮৫৭ ভোট, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল) প্রতীকে ৪ হাজার ৯৩৭ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ (ফুটবল) প্রতীকে ১৭৭ ভোট, সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী মোঃ নাজমুল হুদা (লাঙ্গল) প্রতীকে ১ হাজার ৭৮৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী শহীদুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীকে ১ হাজার ৯৩৫ ভোট, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মোঃ আজিজুল হক (আম) প্রতীকে ৪৩৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল) প্রতীকে ১ হাজার ৫২৪ ভোট, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেওয়াল ঘড়ি) প্রতীকে ২ হাজার ২৭৮ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ আসনে প্রধান দুই দলের বাইরে অন্য প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে তাঁর জামানত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়।