মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:২৯ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক, অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৬২৫-৬২৭৬৪৩
অরক্ষিত সীমান্ত : বছরে ২৫ হাজার নারী ও শিশু পাচার

অরক্ষিত সীমান্ত : বছরে ২৫ হাজার নারী ও শিশু পাচার

CLLiMBTWwAAhe0R

আমার সুরমা ডটকম : বাংলাদেশ থেকে ভারতে নারী ও শিশুপাচার বেড়েই চলেছে। র‌্যাব পুলিশ বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারী ও প্রতিরোধ অভিযানের পরেও থেমে নেই শিশু ও নারী পাচার। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ২৫ হাজার নারী ও শিশু দালালের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হচ্ছে। এদের মধ্যে ছেলে শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার আর মেয়ে শিশু প্রায় ১০ হাজার। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) গবেষণায় দেখা গেছে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ নারী ও শিশু ভারতে পাচার হয়েছে। অন্যদিকে সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে দেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ নারীকে নানাভাবে পাচার করা হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া এসব নারীর কিছু অংশ মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরলেও মিলছে না এদের স্বাধীনতা। স্বাধীনভাবে চলাফেরাতো দুরের কথা, পরিবারের সদস্যদের কাছেও এরা অবহেলার পাত্র। এ অবহেলা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের কারণে অনেক পাচার হওয়া নারী পরিবারের কাছে ফিরতে চায় না। পাচার রোধে সংশি¬ষ্টদের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া পাচার হওয়া নারীদের ফেরত আনার পর যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রও জরুরি। এক শ্রেণির মানুষ নারী ও শিশু পাচারকে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে। তাদের এ ব্যবসা চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতেই চলে এবং পাচার হওয়া অধিকাংশ নারীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়।জানা যায়, গ্রামের সহজ-সরল নারীদের চাকরিসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে ভারত-পাকিস্তানে পাচার করা হয় এবং দেশের পতিতা পল্লীতে বিক্রি করে দেয়া হয়। এছাড়া কাজের জন্য যারা বিদেশ যায়, তাদেরকে দেশ বদল করে পাঠানো হয় ভিন্ন দেশে এবং কাজ বদলে করা হয় সম্ভ্রমহরণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাজ ঠিক থাকলেও সম্ভ্রমহরণ বন্ধ থাকে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চাকরি করতে গিয়ে নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হয় হাজার-হাজার নারী। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া ছাড়াও করা হয় শারীরিক নির্যাতন। অনিরাপদ এই শ্রম অভিবাসনের নামে কার্যত নারী পাচারের ঘটনাই ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় প্রতারণার শিকার হওয়া বেশিরভাগ নারী লোকলজ্জার ভয়ে মামলা করতে চায় না, আবার অনেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিছু টাকা পেলেই খুশি। তবে এসব নারী কোনোভাবে মুক্তি পেলেও বিভিন্নভাবে সামাজিক সম্মান থেকে বঞ্চিত হয়।বিভিন্ন সূত্র মতে, দেশের ১৮টি রুট দিয়ে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার নারীও শিশু অবৈধপথে পাচার হচ্ছে ভারতে। পাচারের শিকার বেশির ভাগ নারীদের স্থান হয় ভারতের পতিতা পল্লিতে। ভারতীয় সমাজ কল্যাণ বোর্ডের এক তথ্য থেকে জানা যায়, সেখানের বিভিন্ন পতিতা পল্লীতে প্রায় ৫ লাখ পতিতাকর্মী রয়েছে এর বেশির ভাগ বাংলাদেশী। বিয়ে চাকরি এবং আর্থিক প্রলোভনে পড়ে অনেকে পাচার হয়ে থাকে। সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৪ হাজার ২২২ কিলোমিটার এবং মায়ানমার সাথে ২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। পাচারকারিরা বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের পাচার করে থাকে। উত্তরের দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী ও চাপাইনবানগঞ্জ জেলার সীমান্ত পথ দিয়ে নারীও শিশুদের পাচার করা হয়। ওই অঞ্চলের সীমান্ত এলাকার ১১টি রুট দিয়ে নারীও শিশু পাচার হয়ে থাকে। ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য যশোরের বেনাপোল সীমানা অত্যন্ত সহজ রুট। বেনাপোল থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম বঙ্গের বনগাঁও শহর। এ শহরে রাখা হয় পাচারকারিদের পরে সুবিধামত তাদের স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। যশোর থেকে পাচারকারিরা ভোমরা কলোরোয়া, দর্শনা জীবননগর ও ঝাউডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশু পাচার হয়ে থাকে। দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী ফরিদপুর, নোয়াখালী, বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল, কুষ্টিয়া, যশোরের ঝিকরগাছা, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ, নূরানীগঞ্জের (না.গঞ্জ) ফতুল্লা পার্বত্যাঞ্চলের কক্সবাজার, জেলাগুলো পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে।জানা গেছে, পাচারের শিকার ৬০ ভাগ কিশোরীর বয়স ১২ বছর থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার নারীও শিশু ভারত, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়ে থাকে।ভারত সরকারের এক তথ্যে জানা যায়, মুম্বাই ও দিল্লির বিভিন্ন যৌনপল্লী থেকে বাংলাদেশি নারীদের উদ্ধার করে এই দুই শহরের বিভিন্ন পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়। গত তিন বছরে ভারতের বিভিন্ন শহরের যৌনপল্লী থেকে উদ্ধারের পর দেড়শ বাংলাদেশি নারীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এদের ভালো চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে পাচার করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত পথগুলো দিয়েই পাচার অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে সীমান্ত দিয়ে পাচার রোধে একটি নির্দেশনা জারি করেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক দশকে বাংলাদেশ থেকে ১২ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রায় তিন লাখ নারী ও শিশু পাচার হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার, নারী ও শিশুকল্যাণ সংগঠনের গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত তিন দশকে বাংলাদেশ থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ পাচার হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পাচারের শিকার হয়েছে সীমান্তবর্তী জেলার বাসিন্দারা। তবে সম্প্রতি সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার লোকজনকে ভালো চাকরির আশ্বাস দিয়েও পাচার করা হচ্ছে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাকিস্তান, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যে পাচারের ৬০ ভাগেরও বেশি কিশোরী। এদের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। ২০০১ সালের ৪ জুন গ্লোবাল নিউজের পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে প্রায় ২ লাখ নারীশিশু বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। ফ্রান্সের একটি দৈনিকের ২০০৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ২০ হাজার নারী ও শিশু পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়। এছাড়া টাইমস অব ইন্ডিয়ার ২০০৩ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর ৫০ হাজার নারী ও শিশু বাংলাদেশ থেকে ভারত, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়।পাচারকারীরা দেশের ১৮টি স্থান দিয়ে নারী ও শিশু পাচার করে থাকে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য আছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ২২২ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের ২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। পাচারকারীরা ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত ব্যবহার করে পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশে নারীদের পাচার করে। বাংলাদেশ হতে ভারতে যাওয়ার জন্য যশোরের বেনাপোল অত্যন্ত সহজ রুট। বেনাপোল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও শহর। বাস ও ট্রেনে পাচারকারীরা খুব সহজেই কলকাতা পৌঁছতে পারে। বৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম আর অবৈধ অনুপ্রবেশের মাধ্যমে পাচারের উদ্দেশ্যে নারী ও শিশুদের প্রথমে ভারতের বনগাঁওয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে পাচারকারীরা সাধারণত ভোমরা, কলারোয়া, দর্শনা, জীবননগর ও ঝাউডাঙ্গা সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নারী ও শিশু পাচার করে থাকে। দেশে ৯০ শতাংশ নারী ও শিশু বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়। কলকাতার সঙ্গে সহজ যোগাযোগই এ রুট ব্যবহারের প্রধান কারণ।বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সূত্র মতে, প্রতিবছর এই নারীর মতোই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৫ হাজার নারী ও শিশু অবৈধভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে। পাচারের শিকার হয়ে বাংলাদেশের ভাগ্য বিড়ম্বিত নারীদের স্থান হয় বিদেশের যৌনপল্লীর অন্ধকার জগতে। একই সঙ্গে শিশুদের সুন্দর শৈশবের আনন্দ মিলিয়ে যায় দুঃস্বপ্নে। মরুভূমিতে উটের জকি হিসেবে ব্যবহার করা হয় শিশুদের। নির্মমভাবে হত্যার পর বিক্রি করা হয় শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয় নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে। পাচারকৃত নারী ও শিশুদের জীবনে বয়ে আনে দুঃসহ বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। ভুক্তভোগীরা জানায়, বিয়ে, চাকরি আর মোটা অঙ্কের বেতনের প্রলোভনে পড়ে বাংলাদেশের নারী ও শিশুরা বিদেশ বিভূঁইয়ে অমানবিক জীবনযাপন করছে।তবে পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা পদক্ষেপে মানবপাচার কমতে শুরু করেছে। পাচারের সংখ্যা নিয়ে সরকারি তথ্য আর এ বিষয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সরকারিভাবে প্রতি বছর নারী ও শিশু পাচারের যে সংখ্যা স্বীকার করা হচ্ছে আসলে পাচারের প্রকৃত সংখ্যা তার প্রায় পাঁচগুণ বেশি বলে তথ্য দিচ্ছে এ বিষয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলো।গোয়েন্দারা বলছে, বর্তমানে দেশের উত্তর সীমান্ত সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও গোদাগাড়ি দিয়ে নারী এবং শিশু পাচারের সংখ্যা বেড়েছে। রংপুর, পঞ্চগড়, কুমিল্লা, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, সিলেট সীমান্তপথ দিয়ে নারী পাচার বেশি হচ্ছে। ওই অঞ্চলের সীমান্ত এলাকার ১১টি রুট নারী ও শিশু পাচারের জন্য ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি টেকনাফ অঞ্চলের রোহিঙ্গা শরণার্থী নারী ও শিশু এবং পার্বত্যাঞ্চলের উপজাতীয় নারী ছাড়াও সিডর ও আইলা আক্রান্ত এলাকা পাচারকারীদের অন্যতম টার্গেটে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে সাধারণত স্থলপথই ব্যবহৃত হয়। এছাড়া জল ও আকাশপথও পাচারের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।মানবপাচার নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ১৯৯০ সাল হতে গত ২০ বছরে শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই বাংলাদেশের প্রায় দুই লাখের বেশি নারী ও শিশু পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ২৫ হাজার নারী ও শিশু পাচার হচ্ছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ পাচার হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানে। পাচারকৃত নারীদের অধিকাংশ বিক্রি করা হচ্ছে ওই দেশগুলোর যৌনপল্লীতে।বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মোট পাঁচ লাখ বিদেশি যৌনকর্মী আছে, যাদের বেশিরভাগ বাংলাদেশি। দিল্লি ও কলকাতায় তুলনামূলক এদের সংখ্যা অনেক বেশি। ভারতের বিভিন্ন যৌনপল্লীতে তিন লাখ বাংলাদেশি নারী ও শিশু যৌনকর্মী বাধ্যতামূলকভাবে যৌনকর্মে নিয়োজিত রয়েছে। শুধুমাত্র পাকিস্তানের বিভিন্ন যৌনপল্লীতে কমপক্ষে দুই লাখ বাংলাদেশি মেয়ে কাজ করে। এছাড়াও বাহরাইন, সৌদি আরব, লেবানন, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াসহ বিশ্বের নানা দেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের নারীরা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি নারীদের ধনী ব্যক্তির রক্ষিতা, যৌন দাসী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।শিশুদের বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পর মরু অঞ্চলের দেশগুলোতে বিশেষ করে সৌদি আরব, দুবাইয়ে ব্যবহার করা হয় উটের জকি হিসেবে। এর আগে উটের জকির কাজে ব্যবহার করা শিশুদের উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে ক্ষতিপূরণ। কিন্তু শিশুরা শারীরিক সমস্যার কারণে অনেকেই এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেনি। দেশে ফেরার পরও সেই দিনের বয়ে আনা শারীরিক অক্ষমতা তাদের তাড়া করে ফিরছে। বাংলাদেশের পাচার হওয়া শিশুদের একটি বড় অংশ ব্যবহৃত হয় এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। শিশুদের বিকলাঙ্গ করে অথবা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকৃতির মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করে পাচারকারীরা। এছাড়া নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে চড়ামূল্যে হস্তান্তর এবং মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয়।জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, পাচারকৃত শিশু-কিশোরদের শতকরা ৯০ জনকেই জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নামানো হচ্ছে এবং পাচার হওয়াদের ১৩.৮ শতাংশই কলকাতার পতিতালয়ে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: