শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক, অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৬২৫-৬২৭৬৪৩

ঈদের পর মন্ত্রিসভায় আরেক দফা রদবদল!

Govt-logo-new-250x188ঈদের পরে মন্ত্রীসভায় আরেক দফা রদবদল হতে পরে গুঞ্জন উঠেছে। চমকের মন্ত্রিসভা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে চরম ক্ষোভের কারণে এই রদবদল বলে জানাগেছে।
আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিতর্কিত মন্ত্রীদের বাদ না দিয়ে নতুন করে মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়ানোর কারণে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। কৌশলগত কারণে কেউ সরাসরি মুখ না খুললেও নিজস্ব পরিম-লে ক্ষোভের কথা জানাচ্ছেন দলের সিনিয়র ও কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে তার কাছে দলের অভ্যন্তরে এ অসন্তোষের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভায় আরেক দফা রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ আভাস দিয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, অনেক দিন আগ থেকেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন ছিল। সম্প্রতি ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার দুর্নীতি মামলায় পূর্বের রায় বহাল এবং খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের পচা গম কেলেঙ্কারির পর সেই গুঞ্জন আরো ডালপালা মেলে। গত সোমবার বিকেলে হঠাৎ করেই মন্ত্রিসভা পরিবর্তনের কথা মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নতুন করে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়াদের তালিকায় উঠে আসে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, খাদ্যমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক, বাণিজ্যমন্ত্রী কর্ণেল (অব:) ফারুক খান, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য তারানা হালিম, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসিসহ কয়েকজনের নাম। একইসাথে বিতর্কিত মন্ত্রীদেরও বাদ দেয়া হচ্ছে বলে চাউর হয়।
কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত মঙ্গলবার গণভবনে শপথ নিতে ডাক পড়ে নুরুল ইসলাম বিএসসি, তারানা হালিম ও লালমনিরহাট-২ এর এমপি নুরুজ্জামান আহমেদের। এ ছাড়া বর্তমান মন্ত্রিসভার দুইজনকে পদোন্নতি দিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো মন্ত্রীকে বাদ দেয়া হয়নি।
সবাইকে অবাক করে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর এমন চমকে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী। মন্ত্রিসভায় ডাক পড়তে পারে সে আশায় মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত উল্লিখিতদের অনেকেই বসে থাকলেও সন্ধ্যার পর কেউ কেউ রাজধানী ত্যাগ করেন। বুধবারও নিজ নিজ এলাকার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন কেউ। তাদের অনেকেই নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অনেকেই আবার দিনভর বাসা থেকে বের হননি। রাগে ক্ষোভে আর অভিমানে খুব কাছের মানুষদেরও ফোন রিসিভ করেননি তারা। এ ছাড়া তাদের বাইরেও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এদিন দিনভর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফোরামে আলোচনার বিষয় ছিল মন্ত্রিসভার রদবদল।
সম্ভাব্যদের তালিকায় থাকা এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। তিনি যাকে দিয়ে ইচ্ছা তাকে দিয়ে দল ও সরকার চালাবেন। এখানে কারো কিছু করার নেই।
তালিকায় না থাকা অন্য এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আসলে আমাদের ভাগ্যই খারাপ। দলের জন্য এত কিছু করি কিন্তু ভাগ্য বদল হয় না। আর আমাদের ওপর মনে হয় নেত্রীরও নজর পড়ে না। আসলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা খুব উদার প্রকৃতির মানুষ। তিনি যাকে দেন তাকে একেবারে ঝুড়ি ভরে দেন।
দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদকম-লীর একজন সদস্য বলেন, আসলে মন্ত্রিসভায় কারা এলো তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। নেত্রী যাকে ইচ্ছা পোর্টফোলিও দিতে পারেন। কিন্তু পচা গম কেনাসহ যাদের বিভিন্ন অপকর্মে দল ও সরকারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে তাদের কেন বাদ দেয়া হয়নি তা নেত্রীই ভালো জানেন। এতে মন্ত্রিসভা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর উচিত অবিলম্বে বিতর্কিতদেরকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা। এতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নেতাকর্মীদের আস্থা আরো বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার রদবদল এবং দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীদের নিয়ে মাঠ নেতাকর্মীদের মনোভাব প্রধানমন্ত্রী অবগত রয়েছেন। সেজন্য দল ও সরকারের ইমেজ রক্ষায় ঈদের পরই মন্ত্রিসভায় আরেক দফা রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। বিতর্ক এড়াতে এ দফায় বিতর্কিত মন্ত্রীদের বাদ দেয়া না হলেও কিছু দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠলে সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ণকারী এসব মন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে। এ সময় আলোচনায় থাকা আরো কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: