শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক, অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৬২৫-৬২৭৬৪৩
সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন বাংলাদেশে

সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন বাংলাদেশে

untitled-1_103562আমার সুরমা ডটকম : নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে বহনকারী গাড়ি রাত ১১টা ৩২ মিনিটের সময় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাকে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা মেট্রো-চ-৫১-৮৯২৮ নম্বরের একটি নেভি ব্লু মাইক্রোবাসে করে তাকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় কোন সাংবাদিকের সঙ্গে তাকে কোন কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের কেউ কোন কথা বলেননি। তাকে হস্তান্তর করা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কাছে। এর আগে ভারতের বারাসাত জেল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাকে নিয়ে পুলিশের একটি দল কলিকাতা-যশোর রোড ধরে বেনাপোলের বিপরীতে পেট্রাপোল সীমান্তে রওয়ানা দেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে নিয়ে পুলিশের দলটি ভারতীয় চেকপোস্ট আসে। এরপর বেনাপোল চেকপোস্ট বিজিবি ও পেট্রাপোল বিএসএফ ক্যাম্পে দফায় দফায় বৈঠক করতে দেখা যায়। ৭টার দিকে চেকপোস্টের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় বিজিবি ও কাস্টমস। চেকপোস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বাইরের কাউকে চেকপোস্ট এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতের যে কোন সময় নূর হোসেনকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে বিকেলের দিকে খবর আসার পর পরই স্থানীয় সংবাদকর্মীরাও সীমান্তে অপেক্ষা করতে থাকেন। নূর হোসেনকে বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে প্রথমে এ খবর সরকারি দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা স্বীকার করতে চাননি। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও  পুলিশ, বিজিবিসহ অন্যান্য গোয়েন্দা কর্মকর্তা দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, নূর হোসেনকে বেনাপোল দিয়েই হস্তান্তর করা হচ্ছে। অবশেষে ভারতীয় পুলিশ নূর হোসেনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় বিএসএফের ৪০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্ণেল কে এস শুকলা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিএসএফ তাকে বিজিবি এর কাছে হস্তান্তর করে। বিজিবি তাদের নিরাপত্তা দিয়ে বেনাপোল থেকে যশোর নিয়ে যাবে বলে জানা গেছে। তাকে সরাসরি নারায়ণগঞ্জ নিতে সড়ক না আকাশ পথ ব্যবহার করা হবে তা নিশ্চিত করে কেউ জানায়নি। তবে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন জানান, নারায়ণগঞ্জ আদালতে তার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল হক, যশোর বিজিবি’র উপঅধিনায়ক মেজর লিয়াকত আলী, উপজেলা নির্বহী অফিসার আব্দুস সালাম, যশোর ডিবি পুলিশের ওসি রাব্বী হাশমি, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসানসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাদের চেকপোস্টে অবস্থান নেন। নূর হোসেনকে নিয়ে যেতে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একটি দল বেনাপোলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা নূর হোসেনকে যশোর থেকেগ্রহণ করতে পারেন। অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তরের পর পরই নূর হোসেনকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত হস্তান্তর করা হবে বলে পূর্বেই ভারত সরকারের কাছ থেকে আভাস পাওয়া যায়। এর আগে বুধবার সকালে উলফা নেতা অনুপ চেটিয়া ও তার দুই সহযোগীকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। উলফার নেতা অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত সরকার নূর হোসেনকে ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। ২০১৩ সালে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তির পর নূর হোসেনই প্রথম ব্যক্তি, যাকে  চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়া হলো। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম সে সময় অভিযোগ করেন, র‌্যাবকে ছয় কোটি টাকা দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পরে র‌্যাবের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও তার সত্যতা পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন এবং র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে ভারতে পালিয়ে যান নূর হোসেন। এরপর ২০১৪ সালের ১৪ জুন কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের কাছে কৈখালি এলাকার একটি বাড়ি থেকে দুই সহযোগীসহ তাকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা হয়। গতবছর ১৮ আগস্ট নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগী ওহাদুজ্জামান শামীম এবং খান সুমনের বিরুদ্ধে চব্বিশ পরগনার বারাসাত আদালতে অভিযোগপত্র দেয় বাগুইআটি থানা পুলিশ। নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের দায়ের করা অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা তুলে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে উত্তর চব্বিশ পরগণার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম সন্দীপ চক্রবর্তী গত ১৬ অক্টোরবর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পথ তৈরি করে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: