বুধবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক, অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৬২৫-৬২৭৬৪৩
ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে: ছাতক উলামা ঐক্য পরিষদ

ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে: ছাতক উলামা ঐক্য পরিষদ

amarsurma.com

স্টাফ রিপোর্টার:

রবিবার বিকাল ২ ঘটিকার সময় ছাতক হাসনাবাদ মাদরাসায় এক জরুরী বৈঠক অনুষ্টিত হয়, উত্তু বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা শামসুল ইসলাম। তিনি বলেন, মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তির নগরী বানানোর এ অপচেষ্টা এ দেশের তাওহীদী জনতা কখনো মেনে নিবে না। তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করা যাচ্ছে, প্রাণীর ভাস্কর্য নির্মাণ বিরোধী ইমানি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি মহল অবিরতভাবে আলেম-উলামার বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার ও নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। এমনকি বরেণ্য শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. ও মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করিম রহ. সম্পর্কেও চরম আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে অবাস্তব ও ভিত্তিহীন প্রশ্ন তুলে পানি ঘোলা করার অপচেষ্টা করছে। সরকার ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল ব্যক্তি থেকে আলেমদের ঘাঢ় মটকে দেয়াসহ বিভিন্ন হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা জানিনা, এসব কোনো সভ্য দেশের দায়িত্বশীলদের ভাষা হতে পারে কি না? মূর্তি বিরোধী বিক্ষোভ করায় বাইতুল মুকাররাম থেকে ছাত্রদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা আটকৃত ছাত্রদের মুক্তির দাবী করছি এবং এসব অপতৎপরতা বন্ধের আহবান জানাচ্ছি।

মাওলানা শামসুল ইসলাম বলেন, ওলামায়ে কেরাম শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিরোধী নন, তারা সব মানবমূর্তি বা ভাস্কর্যের বিরোধী। এখন সে ভাস্কর্য যে কারো হোক।সেটা বঙ্গবন্ধুর হোক, জিয়ার হোক বা এরশাদরে হোক।উলামায়ে কেরাম সব ধরণের মানবমূর্তি বা ভাস্কর্য বিরোধী। সম্মানিত ব্যক্তিদের নামে মানবমূর্তি বা ভাস্কর্য না বানিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ বানিয়ে তাকে স্মরণীয় করে রাখুন। এতে প্রতিনিয়ত তাদের আত্মায় সওয়াব পৌঁছতে থাকবে।

তিনি বলেন, কোনো প্রাণীর-মূর্তি নির্মাণ করা ইসলামী শরীয়তে কঠিন কবীরা গুনাহ ও হারাম। মূর্তি সংগ্রহ, মূর্তি সংরক্ষণ এবং মূর্তির বেচাকেনা ইত্যাদি সকল বিষয় কঠিনভাবে নিষিদ্ধ। মূর্তিপূজার কথা তো বলাই বাহুল্য, মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণেরও কিছু কিছু পর্যায় এমন রয়েছে যা কুফরী। কেউ কেউ মূর্তি ও ভাস্কর্যের মধ্যে বিধানগত পার্থক্য দেখাতে চান। এটা চরম ভুল। ইসলামের দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্য দুটোই পরিত্যাজ্য। কুরআন মজীদ ও হাদীস শরীফে এ প্রসঙ্গে যে শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলো মূর্তি ও ভাস্কর্য দুটোকেই নির্দেশ করে। এ প্রসঙ্গে কুরআন মজীদের স্পষ্ট নির্দেশ-‘তোমরা পরিহার কর অপবিত্র বস্ত্ত অর্থাৎ মূর্তিসমূহ এবং পরিহার কর মিথ্যাকথন।’ -সূরা হজ্জ: ৩০

এছাড়া বাংলা অভিধান, বাংলা পিডিয়াসহ প্রায় সব জায়গাতেই মূর্তি ও ভাস্কর্যের একই সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। অতএব ভাস্কর্য বা সৌন্দর্যবর্ধনের নামে মূর্তি প্রতিষ্ঠা থেকে অবশ্যই নিবৃত্ত হতে হবে। স্বদেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষের ন্যায়সঙ্গত আবেগ-অনুভূতিকে মূল্য দেয়া ছাড়াও এটা যে দায়িত্বশীলদের নিজেদেরও দ্বীন ও ঈমানের দাবি তা তারা উপলব্ধি করেন বলেই আমরা বিশ্বাস করতে চাই। কাজেই যে কারণেই হোক যে ভুল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা অতি দ্রুত বন্ধের আমরা বিনীত অনুরোধ করছি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাঈদ আহমদের পরিচালনায় এ জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়, এতে উপস্থিত ছিলেন শায়খুল হাদিস মাওলানা মুস্তফা কামাল, মাও. এখলাছুর রহমান, মাও. লুৎফুর রহমান ,মাও. আ. কাদির, মাও. আবুল খয়ের, মাও. রমিজ উদ্দীন, মাও. নুরুল ইসলাম, মাও. আ. শহীদ, মাও. শওকত আলী, মাও. নুরে আলম, মাও. জহুরুল হক, মাও. মঞ্জুর আহমদ, মাও. রহমত আলী, মাও. জামিলুর রহমান চৌধুরী, মাও. জামিলুল হক আমিনী, মাও. নুরুল আমিন, মাও. নুরুল ইসলাম, মাও. আ. করীম, মাও. সাইদুর রহমান, মাও. আজিজুর রহমান, মাও. আলাউদ্দীন, মাও. খলিল আহমদ, মাও. বদরুল ইসলাম, মাও. আব্দুল হাই, মাও. নোমান আহমদ, মাও.আ. রহীম, মাও. সালেহ আহমদ, মাও. সামসসুদ্দীন, মাও. জুবায়ের আহমদ,মাও.ফখরুল ইসলাম, মাও. বদরুদ্দীন প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: