বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক, অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৬২৫-৬২৭৬৪৩

সুনামগঞ্জে সুরমার ভাঙ্গনে বিলিন হচ্ছে ঘরবাড়িসহ ফসলী জমি

amarsurma.com

সাইফ উল্লাহ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জে তিন দফা বন্যার পানি নামা শুরু হতেই ভাঙছে নদীরপাড়, বিভিন্ন উপজেলায় সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, রাস্তাঘাট, মসজিদ, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে প্রতিনিয়িতই। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটা হারিয়েছেন অনেকে অনেক পরিবার। কোনো কোনো এলাকার মানচিত্র পাল্টে যাচ্ছে। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে যোগাযোগ সড়ক, গ্রামীণ জনপদ, হাট-বাজার, মসজিদ ও কবরস্থান। জেলার ৬টি নদীর ১৮ স্থানে তীব্র আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে ৪টি পয়েন্টে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করেছে পাউবো। পাউবোর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ নিয়েও নানা সমালোচনা চলছে।
জেলার খরস্রোতা নদী সুরমা, কুশিয়ারা, নলজুর, বটেরখাল, মহাশিং ও পুরাতন সুরমা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লা, ছাতক, দোয়ারা বাজার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার হাটবাজার, গ্রামীণ জনপদ, মসজিদ ও কবরস্থা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে। ভাঙন ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নলজুর নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ সড়ক, জগন্নাথপুর পৌরসভার বাজার এলাকা, কুশিয়ারার ভাঙনে শাল্লা উপজেলার প্রতাপপুর, ফয়জুল্লাপুর, জগন্নাথপুরের আলমপুর-বালিশ্রী, বড়ফেচি, দিরাই উপজেলার আখিলশাহ্, মহাশিং নদীর ভাঙনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আক্তাপাড়া বাজার, সুরমা নদীর ভাঙনে ছাতকের নুরুল্লাহপুর, মুক্তিরগাঁও, দোয়ারা বাজারের নূরপুর, সুনামগঞ্জ পৌরসভার উকিলপাড়া, জগাইরগাঁও, পৈন্দা, মোহনপুরের কবরস্থান ও ধর্মপাশার বৌলাইগঞ্জ বাজার ও নূরপুর-বাবুপুর ভাঙছে, পুরাতন সুরমার ভাঙনে সদর উপজেলার কলাইয়া গ্রাম বিলীন হতে চলেছে। দোয়ারা বাজার উপজেলাকে ভয়াবহ নদী ভাঙন কবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকল্প প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলায় ভাঙন এলাকারও প্রকল্প তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বরাদ্দ এলে কাজ শুরু হবে। তবে সেই বরাদ্দ কবে আসতে পারে তা জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় বছর তিনেক পূর্বে ভাঙনের কবলে পড়ে চলাচলের পাকা রাস্তাসহ প্রায় ১০টি দোকানঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জেলা সদর সংলগ্ন ইব্রাহিমপুরের পার্শ্ববর্তী গ্রাম জগন্নাথপুর, মইনপুর, ধারারগাঁও এলাকার হালুয়ার ঘাটের কিছু অংশে, ব্রাহ্মণগাঁও, নতুন ব্রাহ্মণগাঁও, আমবাড়ি বাজার, আদার বাজার, হরিনাপাটী এলাকায় একই অবস্থা। ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। মোহনপুর ইউনিয়নের পৈন্দা এলাকায় নদী ভাঙন চলছে দীর্ঘদিন ধরে।
জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারের আশপাশ এলাকা, জামলাবাজ, তেলিয়া গ্রাম, নুরপুর, রামনগর, কামলাবাজ, নয়াহালট, রামপুরসহ বেশ কয়েকেটি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব ভাঙনের কবলে পড়ে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এই এলাকার নদী ভাঙন প্রতিরোধে তেলিয়া গ্রামের নদীর পাড়ে কয়েক বছর পূর্বে তাড়াহুড়ো করে কাজ করলেও এখনো ওই গ্রামের নদীর পাশে ব্লক পড়ে আছে যত্রতত্র ও ভাঙ্গনও দেখা দিয়েছে। এ গুলোর রক্ষণাবেক্ষনে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। দোয়ারা বাজার, উপজেলা সদরের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা, মসজিদ, মাদ্রাসা, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, খাদ্যগুদাম ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসভবনের অংশবিশেষ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নৈনগাঁও এলাকায় জায়গা জমি ও গাছপালা, মুরাদপুর, মাঝেরগাঁও এলাকায় নদীরপাড়, ঘারবাড়ি, গাছপালা, মাছিমপুর ও পশ্চিম মাছিমপুর গ্রামের ঘরবাড়ি ও গাছপালা, কাটাখালি, জলালপুর ও সোনাপুর এলাকা। ছাতক মুক্তিরগাঁও গ্রামের পাকা রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও গাছপালা, লক্ষ্মীবাউর গ্রামের ছাতক-দোয়ারা সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গোবিন্দনগর গ্রামের ধানী জমি ও গাছপালা এবং মাদ্রাসা এলাকার রাস্তা নদীতে বিলীন হয়ে এখন মাদ্রাসা হুমকির মুখে। বাউসা গ্রামের অনেক ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। দোলারবাজার এলাকার মইনপুর বাজার রাস্তা নদীতে বিলীন হয়ে গেলেও ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। ধর্মপাশা উপজেলার বাবুপুর বাজারের একাংশ ও নূরপুর গ্রামের কিয়দাংশ নদীতে চলে গেছে। এই ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় ২০টি দোকার ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নুরপুর গ্রামের অনেক বাড়িঘর ও গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে। গোলকপুর ও শারিফপুর এলাকার এবং ইসলামপুর এলাকার অসংখ্য ঘরবাড়ি বিলিন হয়েছে। ভয়াবহ এই নদী ভাঙন প্রতিরোধে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
ইতিমধ্যে জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ সড়ক, শাল্লা উপজেলার প্রতাপপুর ও ফয়জুল্লাপুর এবং ছাতকের নুরুল্লাপুরের ভাঙন ঠেকাতে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা। জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ সড়কের ১৪০ মিটার ভাঙন ঠেকাতে ৪৬ লাখ ৫৬ হাজার, শাল্লা উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের ১৫০ মিটার নদী সংরক্ষণের জন্য ৩৯ লাখ ১৪ হাজার, ফয়জুল্লাপুরের ১৫০ মিটার নদী সংরক্ষণের জন্য ৩৯ লাখ ১৪ হাজার এবং ছাতকের নুরুল্লাপুর গ্রামের ভাঙন ঠেকাতে ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ভাঙন ঠেকাতে নদীতে মাটি ও বালু মিশ্রিত হাজার হাজার বস্তা ফেলা নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমালেনাচনা রয়েছে। বিশেষ করে বস্তার গণনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ মানুষের মুখে-মুখে শুনা গেছে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সবিবুর রহমান বলেন, পাউবো’র নদী সংরক্ষণ প্রকল্পের ৪টি কাজ চলমান রয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে এই কাজগুলো করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: