শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন
আমার সুরমা ডটকম:
সাম্প্রতিককালে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। কারণে-অকারণে, আদিপত্য বিস্তার ও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে সংঘর্ষ-এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত রতন মিয়া (২৭) সিলেট ওসমাণী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার সকালে মারা যান। বিষয়টি নিহতের নিকটাত্মীয় ও দিরাই থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শাহদ্বীপের পক্ষ এবং ২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিত ও রফিক মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে আলীনগর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও একাধিক মামলা চলছিল। সপ্তাহখানেক আগে সংঘটিত একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মঙ্গলবার বিকেলে ভাটিপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শাহদ্বীপকে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করলে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে আল আমিন (২৬), রতন মিয়া (২৭) ও সোনাই মিয়াকে (৭৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রতন মিয়ার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আহতদের চিৎকার ও আর্তনাদে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী সংঘর্ষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দিরাই থানায় কোনো মামলা দায়ের এবং কাউকে আটক করাও হয়নি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’।