মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
আমার সুরমা ডটকম:
কৃষকের কষ্টার্জিত ফলানো ও পরিবারের সার্বিক পরিচালনার অন্যতম মাধ্যম বোরো ধান বৈশাখে হওয়া অতি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেলে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। দিন দিন ধান চাষ করা অনেক ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে অনেকেই কৃষি বিশেষ করে বোরো ধানের আবাদ থেকে মুখ ফিরেিয় নিচ্ছেন। ধান রোপন থেকে শুরু করে কাটা-মাড়াইয়ে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। পরিবারের সকল ব্যয় নির্বাহের অন্যতম এই কৃষিকাজে দিন দিন অনিহা বাড়ছে। বিশেষত বৈশাখ এলে আগাম বন্যার শঙ্কা, শ্রমিক সংকটসহ নানা সমস্যা মাথায় নিয়েই কৃষকগণ সোনালী ফসল ধান ঘরে তোলেন।
এ বছর অতি বৃষ্টির কারণে হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। প্রায় এক সপ্তাহ লাগাতার বৃষ্টি হওয়ায় অনেকেই একমুঠো ধানও কাটতে পারেন নি। আবার অনেকেই ধান কেটে শুকাতে না পারায় পুনরায় বীজ গজিয়েছে। ফলে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ কৃষকদের। আবহাওয়ার উন্নতি ও বৃষ্ট থেমে গিয়ে বোদের ঝলক দেখা দেয়ায় যেগুলো কাটা হয়েছে, সেগুলো ভালোভাবে ঘুরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা।
গত কয়েকদিন ধরে হাওর ও নদীর পানি কমতে শুরু করে। এরই মধ্যে হাওরে জলাবদ্ধতায় ডুবে যাওয়া ধান ভেসে উঠতে থাকে। এই সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিশেষ পদ্ধতিতে (আকি) ধান তুলতে নৌকা নিয়ে হাওরে চলে আসে। যে যেভাবে পারছে ধান উত্তোলন করতে থাকে। এ সংবাদ স্থানীয় কৃষকরা অবগত হয়ে খবর প্রশাসনকে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের বরাম হাওরের (একাংশ) ভাঙ্গাডহর ও ডাইয়ারগাঁও হাওরে গতকাল মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে গ্রামের কৃষকদের পানিতে ডুবে থাকা জমির ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে একদল লোক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি নৌকা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে এ লুটপাট চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরাম হাওরের পানি কমতে শুরু করলে পানির নিচে তলিয়ে থাকা ধান ভেসে উঠতে থাকে। এ সুযোগে নোয়াগাঁও, সন্তোষপুর, বাউসী ও চন্দ্রপুর এলাকার কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি নৌকাযোগে হাওরে প্রবেশ করে ধান কেটে নিয়ে যেতে শুরু করে। এতে হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল দাস বলেন, আমাদের এই হাওরের ষোল আনা ধানের মধ্যে চৌদ্দ আনা ধান পানিতে ডুবে গেছে। এর মধ্যেও বাউসী, নোয়াগাঁও-সন্তোষপুর ও নাচনী চন্দ্রপুর এলাকার কিছু লোক আমাদের হাওরের ধান লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।
বরাম হাওরের কৃষক ভাঙাডহর গ্রামের হরিবল দাস অভিযোগ করে বলেন, জোরপূর্বক আমাদের ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা বাধা দিলেও তারা কোনো কথা শুনছে না।
ধান লুটের খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে দিরাই থানা পুলিশের এসআই মাসুদুল হক মাসুমের নেতৃত্বে নৌকা যোগে লুটপাট কারীদের তাড়া করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে লুটপাট বন্ধ হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দিরাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় মোট বোরো আবাদের পরিমাণ ৩০ হাজার ১৭৭ হেক্টর। এরমধ্যে হাইব্রিড ১৩ হাজার ৮১০ হেক্টর, উফসী ১৬ হাজার ২৭৭ হেক্টর ও স্থানীয় ৯০ হেক্টর। আর অতি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে দুই হাজার ৬৯১ হেক্টর জমির ধান।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া হাওরের ধান কেটে নিয়ে যেতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কিছু লোক নৌকা নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেছিল। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং লুটপাট বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি, তবে তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।