রবিবার, ১৬ Jun ২০২৪, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক: অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৭৯৮-৬৭৬৩০১
মোহাম্মদপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে লাঞ্ছনা ও অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

মোহাম্মদপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে লাঞ্ছনা ও অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

index_114823আমার সুরমা ডটকম : এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। রোববার বিকেলে মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ওই ছাত্রী থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন। শ্যামলী আশা ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ফারহানা আক্তার জানান, রোববার বিকেলে ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে বই কিনতে শিয়া মসজিদের দিকে রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন। এ সময় মসজিদের বিপরীতে থাকা আদাবর থানার এসআই রতন কুমারসহ পুলিশের তিন সদস্য তাকে জোর করে রিকশা থেকে নামান। এরপর তার কাছে ইয়াবা আছে কি না জানতে চান ওই দারোগা। এতে ফারহানা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এক পর্যায়ে শিয়া মসজিদের বিপরীতে একটি ইলেকট্রিকের দোকানে নিয়ে যান তাকে। সেখানে নিয়ে নানা অনৈতিক প্রস্তাবও দেন এসআই রতন।
ফারহানা অভিযোগ করেন, ওই দারোগাকে তার পরিচয়পত্র দেখানোর পরও বারবার ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করেন রতন। পরে ফারহানা রতনকে বলেন, স্থানীয় লোকদের সামনে তার ব্যাগ তল্লাশি করতে হবে এবং প্রয়োজনে থানায় যাবার কথা বলেন তিনি। কিন্তু তার এ প্রস্তাবে রাজি হননি রতন। এসময় রতন গর্ব করে ফারহানাকে বলেন, ‘আমার কাছে ওসি, ডিসি কিছুইনা, কারও কাছে নালিশ করেও কোন লাভ নেই’। তবে কোনো মিডিয়াকে এ বিষয়টা না জানানোর অনুরোধ জানান ওই দারোগা।
ফারহানা ছাড়া পেলেও এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর ওই ইলেকট্রিকের দোকানদারকে দিয়ে ফোন করান রতন। তাকে বলা হয়,‘পরে ফোন করলে যেখানে আসতে বলবো সেখানে চলে আসবেন।’ আপনি কি আবাসিক হোটেলে যান। ইত্যাদিসহ আপত্তিকর কথা জিজ্ঞাসা করেছেন। ফারহানা আরো বলেন, মিডিয়া গিয়ে কি করবেন। ব্যাংক কর্মকর্তা রাব্বির কথা আপনার মনে নেই। সে কি করতে পারছে। আপনিও আমার কিছুই করতে পারবে না।
সজিব নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে রিকশা থেকে নামিয়ে অপমান অপদস্ত করে একটি দোকানের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর দোকানের গেট বন্ধ করে তার সাথে অসৈজন্যমুলক আচরণ করেন। তিনি বলেন, তার স্বামী যদি অপরাধী হয়েও থাকেন, তার জন্য তো তাকে রাস্তায় রিকশা থেকে নামিয়ে অপদস্ত করার কোন বিধান নেই।
এ ব্যাপারে এসআই রতন বলেন, ফারহানাকে রিক্শা থেকে নামিয়ে তল্লাশি করা হয়নি। তাকে আমি চিনি। তিনি আমার পূর্ব পরিচিত। আদাবরের যুবদলের নেতা সজিব আহমেদ রানার স্ত্রী। তাকে রিকসায় দেখে বলি আপনার স্বামী ভুল ঠিকানা দিয়েছেন। তিনি এখন কোথায় থাকেন। তার সঠিক ঠিকানাটা চেয়েছি মাত্র। আর অন্য কোথাও তাকে ডাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেন এসআই রতন।
অপরদিকে ফারহানার স্বামী বলেন, ঘটনার পর তিনি স্ত্রীসহ মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, এসআই রতন তাদের থানার কর্মকর্তা নয়। তবে ফারহানা ওই দারোগার বিরুদ্ধে সোমবার আদালতে মামলা করবেন বলে শীর্ষ নিউজকে জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com