শনিবার, ১৩ Jun ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক: অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৭৯৮-৬৭৬৩০১
সংবাদ শিরোনাম :
দিরাইয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ আসামি আটক সুনামগঞ্জে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে হতাহত ২০ ঈদের দিনসহ আগামী পাঁচ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে? জেলা ছাত্র জমিয়তের কঠোর হুশিয়ারী: শহীদ মুশতাক গাজিনগরী হত্যা মামলার ধীরগতিতে প্রশাসনের উদাসিনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে প্রায় চারশ কোটি টাকার লেনদেনের আশাবাদ: সুনামগঞ্জে কুরবাণীর জন্য প্রস্তুত ৫৩ হাজারের বেশি দেশীয় গবাদী পশু সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ৫ যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে মুসলিম স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়জয়কার: ১০০টিরও বেশি আসনে জয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি: দিরাইয়ে আদিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু দিরাইয়ে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে নেয়ার অভিযোগে কৃষকদের ক্ষোভ দিরাইয়ের বাজারে অপরিপক্ব লিচু: দামও চড়া
কনে চুরি করে বিয়ে করতে হয় যেখানে!

কনে চুরি করে বিয়ে করতে হয় যেখানে!

Kirgistan-300x200আমার সুরমা ডটকম ডেক্সকিরগিজস্তানের একটি নিষ্ঠুর ঐতিহ্য হলো বিয়ের আগে কনেকে অপহরণ করা। সেখানে একজন অবিবাহিত নারীকে যদি কারো বিয়ে করার ইচ্ছা করা হয়, তাহলে ওই নারীকে সেই ব্যক্তি কিডন্যাপ বা অপহরণ করে। তারপর ওই নারীর উপর চলে নিষ্ঠুর নির্যাতন। বিয়েতে রাজি হওয়ার পর সে নির্যাতন বন্ধ হয়।

সাম্প্রতিক একটি স্থানীয় এনজিও এর গবেষণার পর জানা যায়, কিরগিজস্তানের পঞ্চাশ শতাংশ বিবাহ এভাবেই সম্পন্ন করা হয়। মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে তাকে তারা প্রচুর মানসিক চাপে রাখে। মেয়েরা বিয়ে করতে রাজি না হলে ছেলের বাড়ির নারীরা ওই মেয়ের মগজ ধোলাই করেন। এরপরও বিয়ের জন্য রাজি না হলে, মেয়ের সাথে ধর্ষণের মত জঘন্য কাজ করা হয়। এই ঐতিহ্যের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরণের কাহিনী শোনা যায়। কিন্তু, কিরগিজস্তানের দরিদ্র অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে এই অবস্থার কোনো পরিবর্তন করা যাচ্ছে না। এভাবে বিয়ের শিকার হয়েছিলেন ‘রোজা’ নামে এক নারী। তিনি নিজের জীবনের করুণ কাহিনী তুলে ধরেছিলেন এনজিও কর্মীদের কাছে।

রোজাকে ১৯ ও ২৩ বছর বয়সে দুইবার করে অপহরণ করা হয়। প্রথমবার তাকে অপহরণ করে ছেলে তার বাসায় নিয়ে যায়। তখন তাকে চা-নাস্তা করানো হয়। ছেলের মা তাকে ছেলের সকল প্রশংসার কথা বলতে থাকেন এবং বিয়ের জন্য রাজি হতে বলেন। তিনি মানা করে দেন, বিধায় পরিবারের বাকি সদস্যরা তাকে এসে বোঝাতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাকে হুমকি দেওয়া শুরু করেন তারা। সারারাত তাকে বোঝানোর কার্যক্রম চলে, তার উত্তর ‘না’ই থাকে। পরের দিন সকালে তাকে তার মা-বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি বিবাহের জন্য রাজি হননি বিধায় তার বাবা তাকে অনেক কথা শোনান। তারা মনে করেন, মেয়ের বিয়েতে মতামত না থাকার কারণে তারা অপমানিত হয়েছেন। পরবর্তীতে ২৩ বছর বয়সে তাকে আবার অপহরণ করা হয়। সেবার তাকে ধর্ষণ করা হয়। দুবারই তার উত্তর না ছিল। বর্তমানে রোজা তার নিজ পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করে দুই সন্তানের জননী হয়েছেন।

কিরগিস্তানে নারীদের অপহরণ করাকে কোনো খারাপ কাজ মনে করা হয় না। কিন্তু মেয়েরা বিয়ের জন্য রাজি না হলে, উল্টো তাদেরকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এ ধরণের নৃশংস কাজ বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু, এখনও তা যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন প্রায় ৩২জন নারীকে বিবাহের জন্য অপহরণ করা হয়। এরকম ৭০০ মামলা থেকে মাত্র একজন দোষীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়। বেশীরভাগ নারী ভয়ে বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যান, আবার অনেকে নিজের জীবন নিজ হাতেই শেষ করে ফেলেন। তবু এ জঘণ্য প্রথা মেনে নিতে পারেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com