শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক: অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৭৯৮-৬৭৬৩০১
সংবাদ শিরোনাম :
প্রায় চারশ কোটি টাকার লেনদেনের আশাবাদ: সুনামগঞ্জে কুরবাণীর জন্য প্রস্তুত ৫৩ হাজারের বেশি দেশীয় গবাদী পশু সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ৫ যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে মুসলিম স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়জয়কার: ১০০টিরও বেশি আসনে জয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি: দিরাইয়ে আদিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু দিরাইয়ে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে নেয়ার অভিযোগে কৃষকদের ক্ষোভ দিরাইয়ের বাজারে অপরিপক্ব লিচু: দামও চড়া দিরাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি দিরাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে ৪০ জন আহত দিরাইয়ে বিষপানে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যা বৈশাখী কাজের উপকরণ চাহিদার শীর্ষে নেট জাল
প্রায় চারশ কোটি টাকার লেনদেনের আশাবাদ: সুনামগঞ্জে কুরবাণীর জন্য প্রস্তুত ৫৩ হাজারের বেশি দেশীয় গবাদী পশু

প্রায় চারশ কোটি টাকার লেনদেনের আশাবাদ: সুনামগঞ্জে কুরবাণীর জন্য প্রস্তুত ৫৩ হাজারের বেশি দেশীয় গবাদী পশু

amarsurma.com
প্রায় চারশ কোটি টাকার লেনদেনের আশাবাদ: সুনামগঞ্জে কুরবাণীর জন্য প্রস্তুত ৫৩ হাজারের বেশি দেশীয় গবাদী পশু

মুহাম্মদ আব্দুল বাছির সরদার:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহায় এবার দেশীয় ৫৩ হাজারের বেশি কুরবাণীযোগ্য গবাদী পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে। যার বাজার মূল্য প্রায় চারশ কোটির টাকারও বেশি বলে জানা গেছে। জেলায় চাহিদা রয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি, উদ্বৃত থাকছে দুই হাজার ৯০৭টি গবাদী পশু। এরমধ্যে ষাড় ২১ হাজার ১৭৬টি, বলদ ১১ হাজার ৮৯৭টি, গাভী ছয় হাজার ৮৪১টি, মহিষ ৪১৫টি, ছাগল সাত হাজার ৯৬৩টি, ভেড়া চার হাজার ২২১টি। এছাড়া জেলায় খামারীর সংখ্যা ৭৩৭টি, আর স্থায়ী হাটের সংখ্যা ২৬টি ও অস্থায়ী ৩৪টি। পাশাপাশি জেলায় ভেটেনারী মেডিকেল টিমের সংখ্যা রয়েছে ১৯টি। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত তথ্যে এসব জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আসন্ন এবারের ঈদুল আযহায় সুনামগঞ্জে কুরবাণীযোগ্য দেশীয় গবাদী পশুর প্রাপ্যতা ৫৩ হাজার ৪০১টি। এরমধ্যে চাহিদা রয়েছে ৫০ হাজার ৪৯৪টি, উদ্বৃত থাকছে দুই হাজার ৯০৭টি। তবে উদ্বৃতের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি তিন হাজার ৪১৭টি কুরবাণীর জন্য গবাদী পশুর মজুদ রয়েছে ছাতক উপজেলায়, সবচেয়ে কম ৮১টি রয়েছে জগন্নাথপুরে। আর ঘাটতির দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি দুই হাজার ৬৫৫টি গবাদী পশু জামালগঞ্জ উপজেলায়, সবচেয়ে কম ৯৮টি শান্তিগঞ্জ উপজেলায়।
সূত্র মতে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রাপ্যতা ছয় হাজার ২১৭টি, চাহিদা তিন হাজার ৯৯৮টি, উদ্বৃত দুই হাজার ২১৯টি। এরমধ্যে ষাড় তিন হাজার ১৪২টি, বলদ ২৮৯টি, গাভী ৮৭৮টি, মহিষ ৫৪টি, ছাগল এক হাজার ৭২টি ও ভেড়া ৫৯৩টি। ছাতক উপজেলায় প্রাপ্যতা সাত হাজার ৭৩৬টি, চাহিদা চার হাজার ৩১৯টি, উদ্বৃত তিন হাজার ৪১৭টি। এরমধ্যে ষাড় চার হাজার ৩১৯টি, বলদ এক হাজার ১৬টি, গাভী ৯৪৮টি, মহিষ ৯১টি, ছাগল ৪৫৪টি, ভেড়া ২৭৯টি। জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রাপ্যতা ছয় হাজার ৫৮১টি, চাহিদা ছয় হাজার পাঁচশটি, উদ্বৃত ৮১টি। এরমধ্যে ষাড় তিন হাজার ২৫টি, বলদ তিনশটি, গাভী এক হাজার ৩৪৫টি, মহিষ ৭৭টি, ছাগল এক হাজার ৩১০টি, ভেড়া ৯৫৭টি। জামালগঞ্জ উপজেলায় প্রাপ্যতা এক হাজার পাঁচশটি, চাহিদা চার হাজার ১৫৫টি, ঘাটতি দুই হাজার ৬৫৫টি। এরমধ্যে ষাড় ৫১১টি, বলদ ১২৩টি, গাভী ৪২৪টি, মহিষ ৫০টি, ছাগল ৬৮২টি, ভেড়া ৪৬০টি। তাহিরপুর উপজেলায় প্রাপ্যতা এক হাজার ২৬টি, চাহিদা দুই হাজার ১৫০টি, ঘাটতি এক হাজার ১২৪টি। এরমধ্যে ষাড় ৫৮৪টি, বলদ ১১৬টি, গাভী ১৩৩টি, মহিষ ৫৪টি, ছাগল ২২৭টি, ভেড়া ২৬৬টি। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় প্রাপ্যতা দুই হাজার ৪৮২টি, চাহিদা দুই হাজার ২৫০টি, উদ্বৃত ২৩২টি। এরমধ্যে ষাড় ৭৬০টি, বলদ ১৪৩টি, গাভী ২৬১টি, মহিষ ৫টি, ছাগল ৮১৭টি, ভেড়া ৫০১টি। দিরাই উপজেলায় প্রাপ্যতা পাঁচ হাজার ৪৭৫টি, চাহিদা পাঁচ হাজার ১২০টি, উদ্বৃত ৩৫৫টি। এরমধ্যে ষাড় দুই হাজার ৪০৫টি, বলদ ৭৪০টি, গাভী এক হাজার ২২৫টি, মহিষ ১০টি, ছাগল ৬৮৫টি, ভেড়া ৪১০টি। দোয়ারা বাজার উপজেলায় প্রাপ্যতা চার হাজার ৩৮৪টি, চাহিদা চার হাজার ১১২টি, উদ্বৃত ২৭২টি। এরমধ্যে ষাড় দুই হাজার ১১০টি, বলদ ৫৪৫টি, গাভী ৮৬৪টি, মহিষ ২৪টি, ছাগল ৪৯০টি, ভেড়া ৩৪৯টি। ধর্মপাশা উপজেলায় প্রাপ্যতা নয় হাজার ৬২৩টি, চাহিদা নয় হাজার পাঁচশটি, উদ্বৃত ১২৩টি। এরমধ্যে ষাড় তিন হাজার ৪০টি, বলদ তিন হাজার ৯৫০টি, গাভী ২১০টি, মহিষ ২০টি, ছাগল এক হাজার ৫২০টি, ভেড়া একশটি। শাল্লা উপজেলায় প্রাপ্যতা দুই হাজার ৭৫টি, চাহিদা এক হাজার ৯৯০টি, উদ্বৃত ৮৫টি। এরমধ্যে ষাড় ৭৪০টি, বলদ ৩২৫টি, গাভী ৪৫০টি, মহিষ ৩০টি, ছাগল ২৯৬টি, ভেড়া ২৩৪টি। শান্তিগঞ্জ উপজেলায় প্রাপ্যতা ছয় হাজার ৩০২টি, চাহিদা ছয় হাজার চারশটি, ঘাটতি ৯৮টি। এরমধ্যে ষাড় ৫৪০টি, বলদ চার হাজার ৩৫০টি, গাভী ১০৩টি, ছাগল ৪১০টি, ভেড়া ৭২টি।
এদিকে জেলায় এ বছর কুরবাণীযোগ্য পশু বিক্রির সম্ভবনা রয়েছে প্রায় চারশ কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে জেলায় খামারীর সংখ্যা রয়েছে ৭৩৭টি। এছাড়া স্থায়ী কুরবানীর হাট ২৬টি ও অস্থায়ী ৩৪টি। কুরবাণীর হাটে সার্বক্ষণিকভাবে ভেটেনারী মেডিকেল টিম রয়েছে ১৯টি। সূত্র মতে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় স্থায়ী হাট রয়েছে চারটি ও অস্থায়ী তিনটি, ভেটেনারী মেডিকেল টিম দুইটি; ছাতকে স্থায়ী হাট দুইটি ও অস্থায়ী সাতটি, মেডিকেল টিম তিনটি; দোয়ারা বাজারে স্থায়ী হাট নয়টি ও অস্থায়ী একটি, মেডিকেল টিম দুইটি; জগন্নাথপুরে স্থায়ী হাট দুইটি ও অস্থায়ী ১০টি, মেডিকেল টিম একটি; দিরাইয়ে স্থায়ী হাট দুইটি ও অস্থায়ী দুইটি, মেডিকেল টিম দুইটি; জামালগঞ্জে স্থায়ী হাট একটি ও অস্থায়ী একটি, মেডিকেল টিম একটি; তাহিরপুরে স্থায়ী হাট একটি, মেডিকেল টিম একটি; বিশ্বম্ভরপুরে স্থায়ী হাট তিনটি ও অস্থায়ী পাঁচটি, মেডিকেল টিম দুইটি; শান্তিগঞ্জে স্থায়ী হাট দুইটি, মেডিকেল টিম দুইটি; ধর্মপাশায় অস্থায়ী হাট চারটি, মেডিকেল টিম একটি; শাল্লায় অস্থায়ী হাট একটি, মেডিকেল টিম দুইটি।
বিভিন্ন বাজার পর্যবেক্ষণ ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ঈদে বিক্রির মূল্য সন্তোষজনক। সাধারণভাবে লালন-পালন করে যারা বিক্রি করছে, তারাও পশুর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন বলে জানান। তবে এবারো বাজারে দেশীয় পশু থাকা ও দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে হওয়ায় ক্রেতারা নির্বিঘ্নে বাজারে এসে তাদের পছন্দমতো গরু, ছাগল ও ভেড়া কিনতে পারছেন। পাশাপাশি বাজারে ভারতীয় গরু না থাকায় খামারী ও সাধারণ কৃষকগণ তাদের পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় ঈদের আনন্দের মতোই খুশি।
অন্যদিকে এলাকা, পশুর সাইজ ও বাজারভেদে গরু সর্বনিম্ন ৫০/৬০ হাজার ও সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা আছে। ছাগল সর্বনিম্ন পাঁচ/ছয় হাজার ও সর্বোচ্চ ২৫/৩০ হাজার টাকা, ভেড়া সর্বনিম্ন চার/পাঁচ হাজার ও সর্বোচ্চ ১৫/১৭ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। সর্বোপরি এ বছর ক্রেতা ও বিক্রেতাগণ নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দমতো ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছেন বলে একাধিক ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মোঃ রফিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, এ বছর সুনামগঞ্জে আমরা কুরবাণীর জন্য প্রায় ৫৩ হাজারেরও বেশি সুস্থ-সবল পশু প্রস্তুত করে রেখেছি। আশা করছি, জেলার ৬০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটে প্রায় চারশ কোটি টাকারও বেশি বিক্রির সম্ভবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, কিছু কিছু জায়গায় খোড়া রোগ দেখা দিয়েছে। তবে এগুলোতে শঙ্কার কোনো কারণ নেই। কুরবাণী পর্যন্ত বাজারের পুরো ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করতে ১৯টি ভেটেনারী মেডিকেল টিমও রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছর দেশি পশু দিয়ে কুরবাণী করতে আমরা সর্বোচ্চ কাজ করছি। পাশাপাশি সাধারণ গৃহস্থ ও খামারীরা যাতে লাভবান হতে পারে, সে জন্য সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ নজরদারী চলছে। যেখানে ভারতীয় গরু আমদানী হচ্ছে, সাথে সাথেই তাদেরকে প্রশাসনের আওতায় এনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com