শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৩ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক, অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৬২৫-৬২৭৬৪৩
আমার ও সরকারের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবো-অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান

আমার ও সরকারের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবো-অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান

এমএম ইলিয়াছ আলী, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বলেছেন, মতিউর রহমান দলের হয়ে বিএনপি-জামায়াতের মত আমার ও সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, আমি তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবো। না হলে তারা দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আসুক, এসে জনসভা করে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মানুষের কাছে ক্ষমা চাক। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুরের মানুষ যদি তাদের ক্ষমা করে, তা হলে আমি কিছু করবো না। শনিবার বিকাল ৩টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা উন্নয়ন পরিষদের আয়োজনে, উপজেলার ৮ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-সদস্য ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে নব-নির্বাচিত ৭, ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য ও ৭, ৮, ৯ ও ১০, ১১, ১২নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্যাদের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
সভায় সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন দোলনের সভাপতিত্বে ও প্রভাষক নূর হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি সিরাজুর রহমান সিরাজ, জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত সদস্য মাহতাবুল হাসান সমুজ ও জহিরুল ইসলাম, সদস্যা শামিমা সুলতানা হালিমা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী তহুর আলী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাছিত সুজন, জয়কলস ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ মিয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা জিএম সাজ্জাদুর রহমান, পশ্চিম বীরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, পাথারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ আমিন, পশ্চিমপাগলা ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক, পূর্বপাগলা ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন, দরগাপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন, পূর্ববীরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান নূর কালাম, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মাসুক মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি রিপন তালুকদার, জুবেল আহমদ, রাজা মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুজন, যুগ্ম-সম্পাদক লিয়াকত আলী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম শিপন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (রাজনৈতিক) হাসনাত হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, নূর আহমদ, উপজেলা যুবলীগের ত্রাণ সম্পাদক শাকির আহমদ, সাংস্কতিক সম্পাদক নূর আলম, ধর্ম সম্পাদক রোশন আলী, সহ-সম্পাদক জুসেন আহমদ, ছাত্রলীগ নেতা ছদরুল আহমদ, রয়েল আহমদ, আল-মাহমুদ সুহেল, এমরান হোসেন, আলী শাহান, জাহিদুল ইসলামসহ প্রমূখ।
মন্ত্রী আরও বলেন, তারা সুনামগঞ্জে বসে বসে মানুষকে মিথ্যা বলছে, আমি নাকি সুনামগঞ্জে একটি ইটও লাগাইনি। তারা কি জানে না? বিগত ৮ বছরে আওয়ামীলীগ সরকার সুনামগঞ্জের জন্য কত উন্নয়ন করেছে। এই সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে ১৪টি সেতু নির্মাণ করেছি। আমরা ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুশিয়ারা নদীর উপর রাণীগঞ্জ সেতু নির্মাণ করছি। সুনামগঞ্জ সুরমা সেতুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করেছি।
তিনি বলেন, আমি কত উন্নয়নের কথা বলবো? নিজের কাছে লজ্জা লাগে এগুলো বলতে। এগুলো আপনারা জানেন। আমি সরকারের টাকায় নিজের নামে কোন প্রতিষ্ঠান করিনি। আমি, ইট-বালু-পাথর-জলমহাল খেতে রাজনীতিতে আসিনি। আমি আপনাদের কথা দিয়ে ছিলাম, আমি নির্বাচিত হলে আপনাদের সেবা ও এলাকার উন্নয়ন করবো। তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, সারা বাংলাদেশে ২০১৮ সালের মধ্যে বিদ্যুতের আওতায় আসবে। কেউ বিদ্যুতবিহিন থাকবে না। কিন্তু আমার নির্বাচনী এলাকা এই দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর উপজেলার জনগণ আগামি ৩ মাসের মধ্যে সবাই বিদ্যুতের আওতায় চলে আসবে।
মন্ত্রী বলেন, এই যে কয়েক দিন আগে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার দাবি প্রেক্ষিতে এই হাওর অঞ্চল সুনামগঞ্জের জন্য একনেক সভায় একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি বিশ^বিদ্যালয় অনুমোদন হলো। এটা কার জন্য হয়েছে। বলেন আপনার?
মন্ত্রী বলেন, তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছে, তারা বলে, আমি নাকি ৭১ সালে পাকিস্তানে ছিলাম। আরে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জানেন। এই এলাকার জনগণ জানেন, আমি কোথায় ছিলাম। সরকারের ফাইল আছে। তিনি বলেন, আমি ১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত ৪ বছর আমি লেখাপড়ার জন্য পাকিস্তানে ছিলাম। সেই সময় আমি সুনামগঞ্জ মহোকুমায় শত শত ছাত্রদের মধ্যে পরীক্ষায় ১ম হয়েছিলাম।
পরে ১৯৭০ সালে আমিসহ সারাদেশের অনেকেই চাকুরির জন্য আবেদন করেছিলাম। পরে পরীক্ষার মাধ্যমে সারাদেশের মধ্যে আমি ১ম স্থান লাভ করি। কিন্তু সেই সময় পরীক্ষায় আমার যারা উত্তীর্ণ হয়েছিলাম আমাদের কারও চাকুরি হয়নি। এরপরেই শুরু হল মহান মুক্তিযুদ্ধ। সেই সময় আমি কি করেছিলাম আপনারাই জানেন। আমি আমার গ্রামেই ছিলাম। আপনারই আমার প্রত্যক্ষদর্শী। আমি পাকিস্তানীদের সহযোগিতা করেছি কি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছি আপনারাই দেখেছেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭২ সালের ২৮শে জানুয়ারি আমরা ৬০ জন যারা পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছিলাম, তারা সবাই বলল আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আমি দেখা করে সবার কথা বলার জন্য। আমি তখন, সৎসাহস নিয়ে, অনেক অপেক্ষা করতে করতে, রাত ১১টায় বঙ্গবন্ধুর বাসায় প্রবেশের অনুমতি পাই। ভেতরে প্রবেশ করে বঙ্গবন্ধুর পিএস বর্তমান সংসদরে মাননীয় স্পিকার ড. শীরিন শারমির চৌধুরীর পিতা রফিক উল্লাহ চৌধুরী সাথে দেখা হয়। তিনি আমাকে বসতে বলেন। কিছুক্ষণ পরে আমাকে তিনি বলেন, আমি উপরের তলায় যাওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু আমাকে ডেকেছেন। আমি তখন, সেই কাঠের সিঁড়ি বেয়ে দু’তলায় উঠি। ছোট্ট একটি কক্ষে তখন বঙ্গবন্ধু থাকতেন। আমি সেই কক্ষে প্রবেশ করে দেখি আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পাশে বতর্মান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ ও অন্যপাশে ছিলেন মরহুম শ্রমিক নেতা (নোয়াখালী বাড়ি) নূরুল হক। বঙ্গবন্ধু আমাকে দেখে বললে কি? তুমি কিসের জন্য এসেছ? আমি তখন বললাম স্যার আমি গ্রামের এক গরীব পিতার সন্তান, আমিসহ অনেকেই চাকুরির জন্য ৭০ সালে পরীক্ষা দিয়ে ৬০ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের চাকুরি হয়নি।
মন্ত্রী আরও বলেন, তখন আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আমার কথা শুনে, সাথে সাথেই বললেন, তোমাদের মত শিক্ষিত ছেলেরাই আমার এই যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত দেশের জন্য দরকার। যাও আমি দেখছি কি করা যায়। কোন চিন্তা করোনা। তোমাদের চাকরি হয়ে যাবে। পরে ১৯৭৪ সালে আমাদের চাকুরি হয়।
তিনি বলেন, সেই চাকুরির নিয়োগপত্র বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরসহ কাগজ আমার কাছে আছে ও সরকারের কাছে আছে। আরও মতিউর বলে, আমার চাকুরি না কি জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন? কি মিথ্যা কথা। দলের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার সেই কাগজপত্র আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন। আমি কেমন মানুষ, আমি সরকারের টাকা লুটেপুটে খাচ্ছিনা দেশের উন্নয়ন করছি?
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, সেই সময় দেশের বিরোধিতা করে ছিলেন অনেকেই আমি নাম বলবো না। তাদের প্রতি এখন এই প্রজন্মের তরুণরা ঘৃণা ও ধিক্কার জানায়। আমরা সেই সব রাজাকারদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি কার্যকর করছি। মন্ত্রী বলেন, আমার সম্পর্কে না জেনে জনসভা করে যারা মিথ্যা অপপ্রচার ও কটুক্তি করে যাচ্ছে, আমি তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবো। তিনি বলেন, আমি অন্যায়ের কাছে কখনও মাথা নত করিনি। আগামীতেও করবো না। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের সেবা করার জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছি। আমার কোন টাকা নাই, সম্পত্তি নাই, জায়গা নাই। আমার কোন সম্পত্তির প্রয়োজন নাই। আমি আপনাদের ভালবাসা নিয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাটিয়ে যাবো।
সংবর্ধনাসভা সফল করার লক্ষে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে উপজেলা সদরের শান্তিগঞ্জ বাজার মিছিলে মিছিলে সভাস্থলে জনসমূদ্রে পরিণত হয়। এরপরে বিকাল ৩টায় হাজার হাজার জনতার মঞ্চে প্রধান অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি উপস্থিত হলে হাজার হাজার জনতার কণ্ঠে “সুনামগঞ্জের মাটি-এমএ মান্নানের ঘাটি” এমন সব স্লোগানে সভাস্থল প্রকম্পিত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: