শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৫ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক, অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৬২৫-৬২৭৬৪৩
ছাতকে শাপলা বেগমের ভাড়াটে বাদি সাজার তথ্য ফাঁস করলো পুলিশ

ছাতকে শাপলা বেগমের ভাড়াটে বাদি সাজার তথ্য ফাঁস করলো পুলিশ

চান মিয়া, বিশেষ সংবাদদাতা (সুনামগঞ্জ): ছাতকে নিরীহ লোকজনের উপর একের পর এক মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়েরের পর অবশেষে চৌকস পুলিশের হাতে ধরাশায়ি হয়েছেন বিয়ে পাগল মাহবুব লন্ডনীর পরিত্যাক্তা স্ত্রী শাপলা বেগম। মামলার তদন্তে তার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ভাড়াটে বাদি সাজার চাঞ্চল্যকর তথ্য বের করেছে পুলিশ। জানা যায়, দোলারবাজার ইউপির মঈনপুর গ্রামের শুকুর আলীর মেয়ে শাপলা বেগমের বিয়ে হয় কুর্শি গ্রামের বিয়ে পাগল মাহবুব লন্ডনীর সাথে। ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর শাপলা বেগমসহ একই সাথে চার স্ত্রীর নামে ছাতক পৌরসভা মেয়র বরাবরে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে তালাক দেয় মাহবুব। তালাকনামায় স্বামী মাহবুবের কলামে স্বাক্ষর দেয় প্রতারক আব্দুল্লাহ। এদিকে মাহবুবের ছোট বোন লিপি বেগমের স্বামি হাসনাবাদ গ্রামের খালেদ আহমদের সাথে মাহবুবের সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। তাদের এ পারিবারিক বিরোধে মাহবুব টাকার বিনিময়ে শাপলাকে ভূঁয়া স্ত্রী পরিচয়ে থানা ও আদালতে একের পর এক মিথ্যা মামলার ভাড়াটে বাদি সাজানো হয়। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর মঈনপুর গ্রামের একটি বলাৎকারের ঘটনায় খালেদ ও রাজনের বিরুদ্ধে শাপলা বাদি হয়ে থানায় মামলা (নং ৯, তাং-১১.১১.২০১৬ ইং) দায়ের করা হয়। পরে থানার চৌকস পুলিশ অফিসার এসআই সফিকুল ইসলামের তদন্তে বেরিয়ে পড়ে শাপলার থলের বেড়াল। গত ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর দেয়া থানার চুড়ান্ত রিপোর্টে (নং-৮০) বলা হয়, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর রাতে মঈনপুর গ্রামে একটি ওরস চলাকালে শাপলার ভাই লুৎফুর রহমানসহ এলাকার ৩/৪ জন বখাটে যুবক একই গ্রামের ওয়াহাব আলীর ছেলে রাগিব আলীকে (১০) বলাৎকার করে। পরে ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন কুতুবের সভাপতিত্বে সালিশ বৈঠকে লুৎফুরসহ বলাৎকারের সাথে জড়িতরা গলায় জুতার মালা পরে গ্রাম ঘুরে আসার সিদ্ধান্ত হলে বখাটে লুৎফুর রায় অমান্য করে বৈঠক থেকে চলে যাবার অপচেষ্টা চালায়। এতে ধস্তাধস্তির সময় শাপলার পিতা ও ভাইয়ের শরীর দরজায় লেগে সামান্য কেটে যায়। এতে শাপলা দু’জনকে ছাতক উপজেলা হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঘটনাস্থল অপর একটি ইউনিয়নে দেখিয়ে ভাড়াটে বাদি সেজে খালেদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা রেকর্ড করে। কিন্তু শাপলা ও লুৎফুরের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার সময় তাদের অবস্থান ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকলেও এজাহাকৃত আসামি খালেদ মিয়া ১৮ কিঃমিঃ ও রাজন মিয়ার অবস্থান ছিল ১১ কিঃমিঃ দূরে। এটি দায়েরে সাবেক ওসি আশেক সুজা মামুন মাহবুবের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সফিকুল ইসলাম আসামি খালেদ মিয়া ও রাজন তালুকদারকে অব্যাহতির জন্যে আদালতে আবেদন করেন। এর আগে একই আসামিদের উপর জিআর মামলা (১৪৮/২০১৬ ইং) ও সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু আদালত বরাবরে কোর্টপিটিশন মামলা (নং-২৪২/০১৬ ইং) দায়েরে ভাড়াটে বাদি সাজে শাপলা। সেই দু’টি ঘটনাও ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। এসআই সুহেল মোটা অংকের টাকায় মোবাইল কললিস্টসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি পর্যালোচনা না করে মিথ্যা চার্জশীট প্রদান করলে এটি প্রত্যাহারের দাবিতে সিলেট ডিআইজি মহোদয়সহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত আবেদন করা হয়। ফলে এখন সাবেক ঘুষখোর ওসি মামুন, এসআই সুহেল, বিয়ে পাগল প্রতারক মাহবুব লন্ডনী, ঘটক আব্দুল্লাহ ও ভাড়াটে বাদি শাপলা বেগম এখন চরম বেকায় পড়েছে বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: