মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক, অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৬২৫-৬২৭৬৪৩
পাকিস্তানে বিমান বিধ্বস্ত; যাত্রীদের মধ্যে আছেন জুনায়েদ জামশেদও

পাকিস্তানে বিমান বিধ্বস্ত; যাত্রীদের মধ্যে আছেন জুনায়েদ জামশেদও

jamshed-500x265আমার সুরমা ডটকম ডেক্সপাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) ৪৭ যাত্রীবাহী একটি বিমান চিত্রাল থেকে ইসলামাবাদে যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হয়েছে। পিআই`র ফ্লাইট পিকে-৬৬১ এর যাত্রীবাহী বিমানটি বুধবার স্থানীয় সময় সাড়ে তিনটায় চিত্রাল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিধ্বস্ত বিমানটিতে বিখ্যাত ইসলামি সঙ্গীত শিল্পী জুনায়েদ জামশেদও ছিলেন। তিনি দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে সফরে যাচ্ছিলেন। জিও নিউজ জানিয়েছে, জুনায়েদ জামশেদের সঙ্গে তার স্ত্রী নেহা জুনায়েদও ছিলেন।

পিআইএর এক মুখপাত্র বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, পিকে-৬৬১ ফ্লাইটটি উড্ডয়নের পর পরই রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছে। পাকিস্তান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) বলছে, বিধ্বস্ত স্থলে উদ্ধার তৎপরতার জন্য সেনাবাহিনী ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জামশেদের ছেলে জুনায়েদ। লাহোরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ গ্রাজুয়েশন করার পর শখের বশেই রাহেল হায়াত ও শাহজাদ হাসানের সাথে ১৯৮৭ সালের ১৪ আগষ্ট পাকিস্থানের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশাত্মবোধক গান ‘দিল দিল পাকিস্থান’ গাওয়ার মাধ্যমে দেশের প্রথম পপ ব্যান্ড ভাইটাল সাইন প্রতিষ্ঠা করেন।

তাদের প্রথম হিট এ্যালবাম ‘দিল দিল পাকিস্থান’ আকাশচুম্বী খ্যাতি এনে দেয়। এই গানটিই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাকে একজন শৌখিন সংগীতসেবী থেকে পেশাদার শিল্পীতে পরিণত করে। বিমানবাহিনীতে যোগ দিতে ব্যর্থ হয়ে জুনায়েদ একজন পেশাদার প্রকৌশলী হতে চেয়েছিলেন, সংগীতকে কেবলমাত্র শখের বশেই শুরু করেছিলেন। কিন্তু এই প্রাথমিক সফলতার কারনে রাহেল ও সাজ্জাদ তাকে বুঝিয়ে রাজি করান। অনেকগুলো জনপ্রিয় ও হিট এ্যালবাম বের করার পর ১৯৯৫ সালে যখন ব্যান্ড ভেঙে যায় তখন জুনায়েদ জামশেদ তার একক ক্যারিয়ার শুরু করেন। এতেও তিনি অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, পাকিস্থানে প্রথম পপষ্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

পাকিস্থান সেনাবাহিনী তাদের সংগীত ‘কসম উস ওয়াক্ত কি’, পাকিস্থান বিমানবাহিনীর সংগীত ‘পালাটনা ঝাপাটনা’-তে শিল্পী হিসেবে তাকেই বাছাই করে। যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, একের পর এক হিট এ্যালবাম বেরুচ্ছে, তখন হঠাৎ করেই সঙ্গীত ছেড়ে দেয়ার ঘোষনা দেন। ২০০২ সালে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি যখন ঘোষনা করলেন যে তিনি গানবাজনা ছেড়ে দিবেন তখন সংগীতাঙ্গনে যেন ঝড় উঠলো। তার অসখ্য ভক্ত তাদের প্রিয়তম শিল্পীকে হারিয়ে শোকাহত হয়ে পড়লো। ২০০৩ সালের ১৪ আগষ্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সংগীতজগতকে বিদায় জানান। যে জায়গায় ‘দিল দিল পাকিস্থান’-গাওয়ার মাধ্যমে শিল্পীজীবন শুরু করেছিলেন ঠিক একই জায়গায় একই গানের মাধ্যমে সংগীত জীবনে পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন। এই মেধাবী শিল্পী তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করে খ্যাতি ও ভবিষ্যতের পরিবর্তে ঈমানকে বেছে নিলেন।

এই নাটকীয় পরিবর্তনের পর এই সিদ্ধান্ত গ্রহনে তার কোন আফসোস নেই। তিনি বলেন আমার পুর্বের জীবনযাপন কোন দৃষ্টিভঙ্গি এখন আর অবশিষ্ট নেই। আমার নতুন জীবন খুব সরল, পবিত্র এবং সুন্দর। আমি অনুভব করি আপনি আপনার জীবনে আল্লাহর হুকুম ও রাসুলের তরীকার উপর আমল করেন তাহলে দুনিয়াতেই আপনার জীবন জান্নাতে পরিণত হবে। সূত্র: জিও টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: