রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক, অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৬২৫-৬২৭৬৪৩
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে দিরাই-শাল্লার সর্বত্র শোকের ছায়া

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে দিরাই-শাল্লার সর্বত্র শোকের ছায়া

মুহাম্মদ আব্দুল বাছির সরদার: বর্ষিয়ান রাজনীতিক, সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে তার নির্বাচনী এলাকা দিরাই-শাল্লার সর্বত্র শোকের ছায়া বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে এ দু’উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা টাঙানো হয়েছে, শোকপ্রকাশের অংশ হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন। তাছাড়া আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ দিরাই-শাল্লার সর্বস্তরের জনগণের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমেছে। নেতাকর্মীরা অপেক্ষার প্রহর গুণছেন তাদের প্রিয় নেতার মরদেহ আসার। আর শেষ বারের মতো এক নজর দেখতে অপেক্ষায় রয়েছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লাবাসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, (সোমবার) সকাল নয়টায় হেলিকপ্টারে করে মরদেহ সিলেটের উদ্দেশে নেয়া হবে। দশটায় সিলেটে মরদেহে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের পর সাড়ে এগারোটায় মরদেহ নেয়া হবে সুনামগঞ্জে। সেখান থেকে মরদেহ শাল্লা নেয়া হবে দেড়টায়। সবশেষ বেলা তিনটায় মরদেহ পৌঁছাবে দিরাইয়ে। সেখানেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
অনেক স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল: প্রাজ্ঞ ও বর্ষিয়ান এ রাজনীতিবিদের অনেক স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকায় শেষ বয়সে এসে কিছু উন্নয়নমূলক কাজে হাত দিয়েছিলেন। এর কিছুটার শেষ দেখে যেতে পারলেও বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের শেষ দেখতে পারলেন না। এরমধ্যে দিরাইয়ের কালনী নদীর ওপর নির্মিত কালনী সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করলেও বাকি এপ্রোচ ও সংযোগ সড়ক দেখে যেতে পারেন নি। এছাড়া দিরাই থেকে শাল্লা পর্যন্ত রাস্তাটির শেষও দেখে যেতে পারলেন না এ এলাকার সন্তান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বর্ণাঢ্য জীবন: সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার বর্তমান পৌরশহরের আনোয়ারপুর নামক গ্রামে সেন পরিবারে ১৯৪৫ সালের ৫ মে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জন্ম হয়। তার বাবার নাম ডাঃ দেবেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ও মা শ্রীমতি বালা সেনগুপ্ত। দেবেন্দ্রনাথ ঢাকার বিক্রমপুর থেকে এসে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রীর নাম ডঃ জয়া সেন। তার পুত্র সৌমেন সেনগুপ্ত ও পুত্রবধু রাখী মৈত্রী ভৌমিক, সুরঞ্জিতের একমাত্র নাতি শুভজিত সেনগুপ্ত। দিরাই থানা সংলগ্ন দিরাই আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর রাজানগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি, সিলেট এমসি কলেজ থেকে বিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে ইতিহাসে এমএ ও সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে ১৯৭৩ সালে এলএলবি ডিগ্রি পাশ করে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবি হিসেবে পেশা জীবন শুরু করেন। এলএলবি ডিগ্রিধারী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৭১ সালে ৫নং সেক্টরের সাব-কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে ন্যাশনাল আওয়ামীপার্টি (ন্যাপ)-এর প্রার্থী হয়ে তৎকালীন সিলেট-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে নির্বাচন করে মেম্বার অব পার্লামেন্টারী এসেম্বলী (এমপিএ)-এর সদস্য নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামীলীগের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ অক্ষয় কুমার দাস। ১৯৭৩ সালে আওয়ামীলীগের আরেক বর্ষীয়ান নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদের কাছে পরাজিত হন। ১৯৭৯ সালে একতাপার্টি থেকে বর্ষিয়ান কমিউনিষ্ট নেতা বরুণ রায়ের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে দ্বিতীয় বারের মতো বিজয়ী হন। ১৯৮৬ সালে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পিডিপির প্রার্থী গোলাম জিলানী চৌধুরী। তবে উচ্চ আদালতের এক আদেশের প্রেক্ষিতে কিছুদিন গোলাম জিলানী সংসদে দিরাই-শাল্লার প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯১ সালে জাতীয়পার্টির দবিরুল ইসলাম চৌধুরীকে পরাজিত করে ৪র্থ বারের মতো বিজয়ী হন। ১৯৯৫ সালে দীর্ঘ বাম রাজনীতির পাঠ চুকিয়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জাতীয়পার্টির নাছির উদ্দিন চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। পরে হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) থেকে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন। ২০০১, ২০০৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসন থেকে নির্বাচিত হন। বর্ণাঢ্য দীর্ঘ ৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরমধ্যে শুধুমাত্র সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) থেকে ৬ বার ও হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) থেকে ১ বার। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বাংলাদেশের প্রথম খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
error: