বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন
আমার সুরমা ডটকম ডেস্ক:
ইরানের প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানির হত্যাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার জেরে ‘চূড়ান্ত প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে ইরানের অভিজাত বাহিনী। বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, আলী লারিজানি ও অন্যান্য নিহতদের হত্যার প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী করে সতর্ক করেন যে, “উপযুক্ত সময় ও স্থানে একটি চূড়ান্ত, প্রতিরোধমূলক এবং বেদনাদায়ক জবাব দেওয়া হবে।”
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লারিজানির হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে তারা প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার, যখন ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি বিমান হামলা চালায়। ওই অভিযানে মূল লক্ষ্য ছিলেন আলী লারিজানি। হামলার পরপরই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তিনি নিহত বা আহত হতে পারেন। পরে বুধবার বিকেলে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
আলী লারিজানি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন এবং অনেকেই তাকে খামেনির ‘ডানহাত’ বলে অভিহিত করতেন। ইরানে চলমান সংঘাতে নিহত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে লারিজানি সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ। তার মৃত্যু ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লারিজানিকে সর্বশেষ জনসম্মুখে দেখা যায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি। ওই দিনই যুক্তরাষ্ট্র তার মাথার দাম ১০ লাখ ডলার ঘোষণা করেছিল, যা তার নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড ও পাল্টা হুমকির ফলে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আলী লারিজানির মৃত্যু শুধু একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার হত্যাই নয়, বরং এটি আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তথ্যসূত্র : বিবিসি