বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
আমার সুরমা ডটকম:
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে আগাম ঘোষণা দিয়ে রক্তক্ষয়ী এক সংঘর্ষে আনোয়ার হোসেনের ছেলে পায়েল মিয়া (২০) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত তাহেরা বেগমকে (৪৫) মুমূর্ষ অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১০ জন। ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় শাল্লা ইউনিয়নের ইসাকপুর গ্রামে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আউয়াল নূর ও সাইদুর রহমান গ্রুপের দু’পক্ষের মধ্যে ধীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিলো। এরই জের ধরে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী উভয় গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবারে ঘোষণা দিয়েই তারা পরদিন বুধবারে সংঘর্ষে জড়িয়েছে উভয়পক্ষ। গত বছরেও এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিলো। এতে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলাও করেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে। পায়েল সাইদুর রহমান গ্রুপের সদস্য।
এ বিষয়ে সাইদুর রহমান জানান, জমিতে গরুর খাবার নিয়ে আউয়াল নুর গ্রুপের সাথে পাল্টাপাল্টি মামলা চলছে। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে তাদের লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় আমাদের একজন নিহত হয়েছেন, আরেকজন মুমূর্ষ অবস্থায় আছেন।
এদিকে আউয়াল নুর জানান, সাইদুর গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নদীর পাড়ে মহড়া দিচ্ছিল। আমরা কোনো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে যাইনি। তারা নিজেরাই মেরে আমাদের উপর দোষ দিচ্ছে। তিনি আরো জানান, ২০০৪ সালেও তারা মার্ডার করে আমাদের উপর দোষ চাপিয়েছে। এটাও আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
জানতে চাইলে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকিবুজ্জামান জানান, আমরা পায়েল মিয়া নামে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আরেকজন মহিলাকে মুমূর্ষ অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।