মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক: অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৭৯৮-৬৭৬৩০১
সংবাদ শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে পৃথক সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক, ভাঙচুর, লুটপাট, আটক ৭ সুনামগঞ্জে মর্মান্তিক মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় হতাহত ৩ সম্পাদকীয়: ঈদুল ফিতরে ভ্রাতৃত্বের দরজা খুলে যাক দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে পালাচ্ছে মার্কিন রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড শীর্ষ নেতা লারিজানি হত্যার শোধ হবে ‘ভয়াবহ’, হুঁশিয়ারি ইরানের আযাদ দ্বীনী এদাার বোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ: পাসের হার ৮৭.৯৫ ঈদুল ফিতরের আগেই শহীদ মাওলানা মুশতাক গাজিনগরীর হত্যার বিচার দাবি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দিরাইয়ে ক্বেরাত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন

সুনামগঞ্জে পৃথক সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক, ভাঙচুর, লুটপাট, আটক ৭

amarsurma.com
সুনামগঞ্জে পৃথক সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক, ভাঙচুর, লুটপাট, আটক ৭

আমার সুরমা ডটকম:

ঈদ ও পরদিন (২১ ও ২২ মার্চ) সুনামগঞ্জে পৃথক সংঘর্ষে জেলার তিন উপজেলায় প্রায় অর্ধশত আহত, বাড়ি ও দোকান পাট ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনায় সেনাবাহিনী ৭ জনকে তাৎক্ষণিক আটক করে পুলিশে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দিরাই থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় শিশুদের সাইকেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের নাচনী চন্ডিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাশিপুর গ্রামের লোকজনের বিরুদ্ধে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও টিনসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ২১ মার্চ শনিবার ঈদের দিনে সাইকেল নেয়াকে কেন্দ্র করে জেলার দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের নাচনী চন্ডিপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছয়-সাত বছর বয়সী ছেলে বাড়ির সামনে দিরাই-শাল্লা সড়কে সাইকেল চালাচ্ছিল। এ সময় পাশের শাল্লা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের হাফিজুর মিয়ার ছেলে সাইকেলটি নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে বাদশা মিয়া হাফিজুর মিয়ার বাড়িতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে হাফিজুর মিয়ার পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দলবদ্ধভাবে দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
চন্ডিপুর গ্রামের আফিয়া বেগম বলেন, হঠাৎ করেই হামলা চালানো হয়, আমরা ঘটনার কিছুই জানতাম না। আমার ঘরবাড়ি ভাংচুর করে আসবাবপত্র ও ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। টাকাটি বাড়ির পাশে মাটি ভরাটের কাজের জন্য রাখা ছিল। একই গ্রামের মোবাশ্বির বলেন, ঘটনা অন্যজনের সঙ্গে হলেও আমার বাড়িতে হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, ফ্রিজ থেকে জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া, ধান বিক্রির ১০ লাখ টাকা, মোবাইল, টর্চলাইট ও কয়েক বান টিনও নিয়ে গেছে। লাদেন মিয়া বলেন, আমাকে মারধর করে ঘটনার তিন দিন আগে কেনা আমার ডিসকভার মোটর সাইকেলটি নিয়ে গেছে।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ জনকে সিলেটে রেফার করা হয়েছে। লুটপাটের বিষয়ে আমরা শুনেছি। কিন্তু এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একই দিনে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে জেলার শাল্লা উপজেলার পৃথক স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমত উপজেলার ইয়ারাবাদ গ্রামের একটি গ্রুপের সঙ্গে কান্দকলা গ্রামের পাশে আব্দুস সালামের মধ্যে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গুরুত্বর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার ইছহাকপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ইটপাটকেল ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) শাল্লা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় কুমার সরকার জানান, সংঘর্ষের খবর শুনে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে জেলার শান্তিগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলীকে (৪৫) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার পাথারিয়া বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় বাজারের অন্তত ৩টি দোকান ও ৩টি মোটর সাইকেল ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সেনাবাহিনী ৭ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষই স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপ ফারুক আহমদ ও আনছার উদ্দিনের সমর্থক।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গাজীনগর গ্রামের আব্দুল মমিন মিয়া ও আঙ্গুর মিয়ার লোকজনের মধ্যে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাত ৯টার দিকে সালিস বৈঠক বসে। তবে বৈঠকের মধ্যেই মনির মিয়ার পক্ষের লোকজন আঙ্গুর মিয়ার মালিকানাধীন বারাকাত রেস্টুরেন্টে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে আঙ্গুর মিয়ার সমর্থকরা ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়। পুলিশের উপস্থিতিতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
আঙ্গুর মিয়া অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের দোকানপাটে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ ও মালামাল লুট করা হয়েছে। তার দাবি, বারাকাত রেস্টুরেন্ট থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং রিহান স্টোর থেকে আড়াই লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। এছাড়া তার পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আব্দুল মমিন মনির মিয়া বলেন, ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হয়, যার জেরে সংঘর্ষ বাধে। তিনি দাবি করেন, আঙ্গুর মিয়ার লোকজনের হামলায় তাদের পক্ষের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত মোহাম্মদ আলীর পরিবারের অভিযোগ, সংঘর্ষের জেরে তার বসতবাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ থানার ওসি ওয়ালীউল্লাহ জানান, সেনাবাহিনীর আটক করা ৭ জনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com