বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
আমার সুরমা ডটকম: বিমানের কর্মকর্তাদের গাফিলতিতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আজ বুধবার রাতে সচিবালয়ে বিমানের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, এই ঘটনায় ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে। তবে যে পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে, তাঁদের পরিচয় জানাননি মন্ত্রী। বিমানের তেল সঞ্চালন পাইপের ‘নাট ঢিলা’ হয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ক্রটি দেখা দিয়েছিল বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিমানের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তিনটি ফ্যাক্টর বিবেচনায় আনা হয়েছে-যান্ত্রিক ত্রুটি কি না? পরিবেশগত ব্যাপার কি না (বেশি ঠাণ্ডা বা ঝড় কি না) এবং হিউম্যান ফ্যাক্টর ইনভলম্ব কি না? হিউম্যান ফেইলর ফ্যাক্টর প্রধান বলে তারা চিহ্নিত করেছেন। হিউম্যান ফেইলর ফ্যাক্টরকে চিহ্নিত করার ভিত্তিতে পাঁচজন অথবা এক-দুজন বেশিও হতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে ম্যানেজমেন্টকে জানিয়েছে। আশা করি আজ রাত বা কাল সকালের মধ্যে সে ব্যবস্থা তারা নেবেন।’
রোববার হাঙ্গেরি সফরে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৭৭ বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে জরুরি অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের সেখানে চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতি করতে হয়। ত্রুটি মেরামতের পর ওই উড়োজাহাজেই প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা বুদাপেস্টে পৌঁছান। এ ঘটনা তদন্তে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তিনটি তদন্ত কমিটি করে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ দুটি কমিটি করে। পরে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার আগেই কমিটির অনুসন্ধান শেষ করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন রাশেদ খান মেনন।