রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
মুহাম্মদ আব্দুল বাছির সরদার:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৭ জন। নির্বাচন কমিশনে দেয়া অন্যান্য তথ্যের মধ্যে প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শিশির মনির সবার থেকে সম্পদে এগিয়ে আছেন। আর সবচেয়ে কম সম্প হচ্ছে জমিয়ত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শুয়াইব আহমদের। শিশির মনিরের সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৭ টাকা। আর শুয়াইব আহমদের সম্পদ আছে ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকার।
ভাটি অঞ্চলের অন্যতম রাজনৈতিক একটি আসনের নাম সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা)। ৬৮১.৯৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে এই আসনটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ৭ জন প্রার্থীর হলফনামা অনুযায়ী, নির্বাচন করার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই ৬ জন প্রার্থীর। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে দুইজন কৃষিজীবী, তিনজন আইনজীবী, একজন ব্যবসায়ী এবং একজন শিক্ষক।
হলফনামায় কোনো প্রার্থী স্বর্ণের মূল্য উল্লেখ করেন নি। কেউ উল্লেখ করলে বর্তমান মূল্য থেকে কম মূল্য লিখেছেন। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী ৫ ভরি স্বর্ণালংকারের বর্তমান আনুমানিক মূল্য লিখেছেন ১ কোটি টাকা। হলফনামায় ৫ ভরি স্বর্ণের মূল্য বর্তমান বাজার দর থেকে ১৩ গুণেরও বেশি ধরা হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেব পেশায় একজন কৃষক। আগে তিনি বায়িং হাউসের মার্চেন্ডাইজার ছিলেন। কৃষি খাত থেকে তিনি বার্ষিক আয় করেন ৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, টিউশনি থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং নির্ভরশীলদের আয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ অর্থ ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৬০ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণ ৩ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ৫০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৪ লাখ টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪৬০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬০ টাকা। এদিকে স্বামী/স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ আছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৭৫ হাজার টাকা, ২০ ভরি স্বর্ণ ৩০ লাখ টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ৩১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ৪১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে-যৌথ মালিকানায় কৃষি জমি, অকৃষি জমি এবং নিজ ও যৌথ মালিকানায় ঘর, যার মোট মূল্য ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে প্রার্থীর অংশ ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা যুক্তরাজ্য প্রবাসী তাহির রায়হান চৌধুরী পেশায় একজন আইনজীবী। কৃষিখাত থেকে তিনি বার্ষিক আয় করেন ৩ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকা, শেয়ার, বন্ড/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত ৪৫ হাজার ২৪৪ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ অর্থ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৯ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৪ লাখ ৮ হাজার ৮৯২ টাকা, প্রাইভেট কার ১০ লাখ টাকা, ২০ ভরি স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য ২ লাখ টাকা, আসবাবপত্র ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ৫০ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭১ টাকা, যার বর্তমানে আনুমানিক মূল্যও একই। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে ১১ একর কৃষি জমি। অকৃষি জমির মূল্য ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত নিরঞ্জন দাস আইনজীবী পেশা থেকে বার্ষিক ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ অর্থ ৭ লাখ ৮ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্র ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অর্জনকালীন এসবের মোট মূল্য ছিল ১০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকা। এ ছাড়াও স্বামী/স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী বর্তমানে একজন কৃষিজীবী। অবশ্য এর আগে তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন। কৃষিখাত থেকে তিনি বার্ষিক আয় করেন ৪ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ অর্থ ১০ লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা। যার বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ টাকা। এদিকে স্বামী/স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, অর্জনকালীন সময়ে যার মূল্য ছিল ২ লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে ৩ একর ও যৌথ মালিকানায় ১০ একর কৃষি জমি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত মো. সাখাওয়াত হোসেন একজন ব্যবসায়ী। কৃষিখাত থেকে তিনি বার্ষিক আয় করেন ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া দেশের বাইরের বোন থেকে পান ৫০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ অর্থ ১ লাখ টাকা, বাস, ট্রাক, মোটর গাড়ি, মোটর সাইকেল অধিগ্রহণকালে মূল্য ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। বর্তমানে আনুমানিক মূল্যও একই। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে যৌথ মালিকানায় ১০ শতক কৃষি জমি, যার মূল্য ৫ লাখ টাকা। এখানে প্রার্থীর অংশ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত কৃষি জমি ১০.৫০ একর, যার মূল্য ৩০ লাখ টাকা। যার মধ্যে প্রার্থীর অংশ ৭ ভাগের ২ ভাগ অর্থাৎ, ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রার্থীর মূল্য স্থাবর সম্পদ ১১ লাখ টাকা।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মনোনীত শোয়াইব আহমদ শিক্ষকতা পেশা থেকে বার্ষিক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় করেন। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ অর্থ ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক পণ্য ৫০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে একটি টিনের ঘর ১ লাখ টাকা, পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত একটি বাড়ি ১ লাখ টাকা।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির পেশায় একজন আইনজীবী। এই পেশা থেকে তিনি বার্ষিক ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৪০৭ টাকা ও অন্যান্য উৎস থেকে ৯৬ হাজার ৫৯৩ টাকা আয় করেন। এছাড়াও নির্ভরশীলরা শেয়ার, বন্ড/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে বার্ষিক ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮৩৮ টাকা, চাকরি থেকে ৬৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৩২ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ২০ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৫ টাকা আয় করেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নিজ নামে নগদ অর্থ ৯ লাখ ৫২ হাজার ৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৩০০ টাকা, বাস, ট্রাক, মোটরযান, মোটর সাইকেল অধিগ্রহণকালে মূল্য ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২৫ ভরি স্বর্ণ (উপহার), ইলেকট্রনিক পণ্য ৪ লাখ টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ৫১ লাখ ৪ হাজার ৩০৪ টাকা। যার বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ টাকা। এদিকে স্বামী/স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৬৫ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা কৃত অর্থের পরিমাণ ৩৮ লাখ ২৬ হাজার ৩১৭ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির শেয়ার ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৫ টাকা। বাস, ট্রাক, মোটরযান, মোটর সাইকেল অধিগ্রহণকালে মূল্য ৪৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। কেনা ও উপহার হিসেবে প্রাপ্ত স্বর্ণ ৫ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ৭ লাখ ২০ হাজার ৪০০ টাকা। অর্জনকালীন সময়ে এসবের মোট মূল্য ছিল ৫১ লাখ ৪ হাজার ৩০৪ টাকা। যার বর্তমানে আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৩ টাকা। বর্তমানে আনুমানিক মূল্যও একই। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে স্ত্রীর নামে ১ একর ৯৩.৯৬৩ শতাংশ অকৃষি জমি, যার মূল্য ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৭ হাজার ৪২০ টাকা।