বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০১:৩২ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক: অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৭৯৮-৬৭৬৩০১
ঈদে আমেজ নেই দক্ষিণ সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ে

ঈদে আমেজ নেই দক্ষিণ সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ে

সামিউল কবির, স্টাফ রিপোর্টার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ (সুনামগঞ্জ): হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে পবিত্র ঈদুল আযহার আমেজ নেই। অন্য বছরের ঈদের মতো এবার কোরবানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে এলাকার মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে আক্ষেপ। ঈদ যতো ঘনিয়ে আসছে, ততোই এ আক্ষেপ বাড়ছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জে একদিকে এ বছর অকাল বন্যায় হাওরের বোরো ফসল ডুবেছে, অন্যদিকে এ উপজেলার বীরগাঁও, বসিয়াখাওরী, পাথারিয়া, শিমুলবাক এর অনেক পুকুরের মাছও গেছে। আগষ্টের মহামারি বন্যায় রাস্তা ঘাটেরও নাজুক অবস্থা। ফলে হাওর পাড়ের মানুষের জীবনযাপন হয়ে পড়েছে কঠিন। চরম দুশ্চিন্তায় সময় কাটছে মানুষের। ঈদুল আযহার আর মাত্র তিনদিন বাকি। কিন্তু দক্ষিণ সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের মানুষের মনে যেন ঈদের কোন আমেজই নেই। উপজেলার পাথারিয়া বাজারে সরেজমিনে গিয়া দেখা যায় হাওরপাড়ের মানুষদের কোরবানির জন্য কোনো গরু, ছাগল বা অন্য কোনো পশু ক্রয় করাতে যা অন্যবারের তুলনায় অনেক কম। এমনকি ঈদের জন্য নতুন পোশাক কেনার আগ্রহ থাকলেও সাধ্যে কুলোচ্ছে না তাদের। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার প্রধানতম পাগলা বাজার ও শান্তিগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাওর এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের সন্তানরা ঈদের জন্য নতুন জামা কিনে দেওয়ার বায়না ধরছে। কেউ কেউ সন্তানদের নিয়ে বাজারে গিয়ে পোশাকের দাম শুনে কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই আবার সন্তানদের নতুন কাপড় কিনে দিতেই পারছেন না। উপজেলার নোয়াখালী, পাথারিয়া বাজার, চিকারকান্দি বাজার, মিনা বাজার, ডুংরিয়া বাজারসহ কয়েকটি বাজারে কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে শুরু করে সবকিছুর দামই এখন নাগালের বাইরে। এজন্য জীবনধারণ হয়ে পড়েছে কঠিন।

এমতাবস্থায় ঈদে নতুন কাপড় কেনা কিংবা কোরবানি দেওয়া আকাশকুসুম কল্পনা। তারা এও বলেন, যদি বোরো ফসল ঘরে তোলা যেতো, তবে এরকম অবস্থা হতো না। শান্তিগঞ্জ বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সেবুল মিয়া জানান, এখনও ঈদ বাজার জমে ঊঠেনি। মানুষের হাতে এ বছর টাকা না থাকায় ঈদ বাজার জমে উঠবে কিনা সন্দেহ আছে। এবার দেখা যায় গরুর বাজারও জমছেনা, হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও ক্রেতা তেমন
নেই। যে কয়জন আছেন, তারাও দাম বেশি হওয়ায় গরু কিনতে পারছেন না। শান্তিগঞ্জ বাজারে ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাজার করতে আসা কৃষক সাদেকুল মিয়া, নুরুল হক, আজাদ মিয়ার জানান, হাওর ডুবে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় এ বছর কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা। এরই মাঝে সন্তানদের বায়নায় কোনোরকমে তাদের জন্য জামাকাপড় কিনে দিয়েছেন। জয়কলস ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি ও ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান,
এবছর হাওর ডুবা আর বন্যায় হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে না পারায় কোরবানির গরু কেনা কিংবা পরিবারের জন্য কাপড় কিনতে হিমশিম খাচ্ছে হাওরের মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com