বৃহস্পতিবার, ০৯ Jul ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন
আমার সুরমা ডটকম ডেস্ক:
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, উপমহাদেশের শীর্ষ শায়খুল হাদিস ও জগৎ বরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা তাফাজ্জুল হক মুহাদ্দিস হবিগঞ্জী রাহ.-এর মহান জীবনাদর্শ ও অতুলনীয় অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউ.কে। ৬ জুলাই সোমবার অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউ.কে জমিয়তের সভাপতি ড. মাওলানা শুয়াইব আহমদ। সম্মেলনে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ইউ.কে জমিয়তের সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদ।
লন্ডনের বিখ্যাত ফোর্ড স্কয়ার মসজিদের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত বরকতময় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন হযরত হবিগঞ্জীর কৃতী সন্তান, জামেয়া ইসলামিয়া উমেদনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাসরুরুল হক। হযরত শায়খ হবিগঞ্জীর অপূর্ব যোগ্যতা, উপযুক্ততা, গ্রহনযোগ্যতাও সার্বজনীনতা সম্পর্কে বিশেষ আলোচনা উপস্থাপন করেন ইউ.কে জমিয়তের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি আবদুল মুনতাকিম। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা পেশ করেন কাউন্সিল অফ মস্ক টাওয়ার হ্যামলেটসের চেয়ারম্যান হাফিজ মাওলানা শামছুল হক, মাজাহিরুল উলূম লন্ডনের প্রিন্সিপাল মাওলানা ইমদাদুর রহমান আল মাদানী।
আলোচনা সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউ.কের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ, সহ-সভাপতি হাফিজ হুসাইন আহমদ বিশ্বনাথী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ, তাফসীরুল কুরআন বিষয়ক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা মুশতাক আহমদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মইন উদ্দিন খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও টাওয়ার হ্যামলেটস শাখার সেক্রেটারী মাওলানা নাজমুল হাসান, ট্রেজারার ও হ্যাকনী জমিয়তের সেক্রেটারি হাফিজ রশিদ আহমদ, উপদেষ্টা আলহাজ্ব খালিস মিয়া এবং প্রচার সম্পাদক মাওলানা শামসুল ইসলাম।
এ মহান অনুষ্ঠানে আল্লামা হবিগঞ্জি রাহ. সম্পর্কে বক্তাগণ উল্লেখ করেন, তিনি এক সঙ্গে উপমহাদেশের প্রখ্যাত প্রবীন মুহাদ্দিস, লক্ষ লক্ষ মানুষের আলোর মিনার, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং প্রকৃত অর্থে শায়খুল কুরআন ও শায়খুল বুখারী ছিলেন। বক্তাগণ আরো উল্লেখ করেন যে, আল্লামা তফজ্জুল হক হবিগঞ্জী রাহ. ছিলেন, সংগ্রাম-সাধনার যুগপৎ কান্ডারী শায়খুল ইসলাম হযরত মাদানী ও শায়খুল হিন্দের প্রকৃত উত্তরসূরী। তিনি ছিলেন কুরআন সুন্নাহর অসাধারণ পন্ডিত ও ভাষ্যকার। সকলের কাছে তিনি ছিলেন মাকবুল। আল্লাহর ইশক-মুহাব্বাত, সুন্নাতের অনুসরণ, জিহাদ, সাধনাসহ সকল ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সমুজ্জল তারকা।
বক্তাগণ আরো বলেন, হযরত মুহাদ্দিসে হবিগঞ্জি রাহ.-এর মাঝে ঘটিছিল সকল গুণাবলীর অপূর্ব সমাহার। তিনি ছিলেন এ শতাব্দীর বিরল প্রতিভার অধিকারী, একজন উপমাহীন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। আল্লামা হবিগঞ্জি রাহ. একাধারে হাটহাজারিতে আল্লামা আব্দুল কাইয়ুম সাহেব রাহ.-এর কাছে বুখারী শরীফ পড়েন। পরবর্তীতে তিনি আল্লামা মুফতি ফয়জুল্লাহ রাহ., শায়খুল হাদিস ইমাম জাকারিয়া রাহ., আল্লামা ইদরিস কান্দালাভি রাহ., আল্লামা ফখরুদ্দিন মুরাদাবাদি রাহ., আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরি রাহ.-এর কাছে বুখারি শরিফ পড়েন। এমন সুউচ্ছ বেমেসাল হাদিসের সনদের অধিকারি মুহাদ্দিস সত্যিই বিরল। মৃত্যুর সামন্য পূর্বপর্যন্ত তিনি দারসের মাধ্যমে এ বুখারি শরিফের খেদমত করে গেছেন। আল্লামা হবিগঞ্জি রাহ. ইসলাম বাস্তবায়নের মহান লক্ষ্যে, নিষ্ঠার সঙ্গে জীবনভর জমিয়তের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।
সভায় বক্তাগণ আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী রাহ.-কে দ্বীন ইসলামের হেফাজত কল্পে ঈমানী আন্দোলন, শিরক বিদআতের খন্ডন এবং ইলম আমল ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের দিক বিবেচনায় এযুগে ইসলামের মহানায়ক আখ্যায়িত করে তাঁর ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত জীবনের পদাংক অনুসরণের প্রয়োজন তুলে ধরেন।
আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী সম্পর্কে বক্তাগণ উল্লেখ করেন, তাফসীর, হাদিস ও ফেকাহসহ ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা প্রশাখায় অসাধারণ যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখার পাশাপাশি সাবলীল ভাষা ও অপ্রতিরোধ্য রুহানী শক্তি নিয়ে মাওলানা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী ওয়াজ ও তাফসীরের মাধ্যমে দেশ দুনিয়া চষে বেড়িয়েছেন। লক্ষ লক্ষ তাওহিদী জনতাকে সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় তাফসীরুল কুরআন ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে হেদায়েতের পথ দেখিয়ে স্বীয় ময়দানে সাফল্যের শীর্ষে আরোহণ করেছেন তিনি।
ঈমানের দাবিতে গনআন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দানের ইতিহাসও তিনি রচনা করে গেছেন। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে তার হুংকারে মঞ্চ কাঁপত। তিনি সুন্নাতে নববীর চিত্তাকর্ষক নমুনা ছিলেন। আল্লামা তাফাজ্জুল হক রাহ.-এর মহান জীবনাদর্শের দিকে তাকালে আমাদের চোঁখের সামনে ভেসে উঠবে তিনি যেন কুতবে আলম শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানীর প্রতিচ্ছবি। আশরাফ আলী থানভী ও শায়খুল হাদীস জাকারিয়া রাহ. ইলমের গভীরতা।
একটি রোরাল ডিস্ট্রিকে বাস করেও উম্মুল মাদারিস হাটহাজারীর জলসাতে তিনি প্রধান অতিথি হয়ে আমন্ত্রিত হতেন। ঢাকার খতমে বোখারির মাহফিলগুলোতে তিনি হাদীসের আলো ছড়াতেন। সারা দেশে এক মহান শায়খুল হাদিস হিসেবে এক নামে শ্রদ্ধায় মহিয়ান ছিলেন।
বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী এই মনীষা দেশের গন্ডি পেরিয়ে আরব বিশ্ব, ইউরোপ আমেরিকাতে মাসের পর মাস তার দাওয়াতি ও ইসলাহী মাহফিল দ্বারা উম্মাহকে দ্বীন ও কুরআনের পথে আহ্বান করে গেছেন। সভা শেষে হযরত শায়খ হবিগঞ্জী রাহ.-সহ সকল উলামা-মাশায়েখের পরকালীন দরজা বুলন্দীর জন্য বিশেষভাবে মুনাজাত করা হয়।