শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২১ অপরাহ্ন
মুহাম্মদ আব্দুল বাছির সরদার:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই ইতিহাস তৈরি করলেন সুনামগঞ্জ-১, ৩ ও ৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীরা। স্বাধীনতার পর এই প্রথম একক কোনো দল এক সাথে ৫টি আসনেই বিজয়ী হয়েছে। তবে এবার সুনামগঞ্জের ৫টির মধ্যে ৩টিতে বিজয়ীরা এই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে জয়ের মুকুট পড়লেন। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন গেজেটভুক্ত করে তাদের শপথ পড়ানো শেষ হয়ে গেছে।
সূত্র মতে, সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) আসনের ঘোষিত ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বড় ব্যবধান তৈরি করে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনের মোট ১৭৮টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তোফায়েল আহমদ (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৬ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লক্ষ ১ হাজার ৫৩০ জন। নির্বাচনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯২৪টি। সেই হিসাবে এই আসনে ভোট প্রদানের হার দাঁড়িয়েছে ৫১.০৩ শতাংশ।
পোস্টাল ভোটে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল পেয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের তোফায়েল আহমদ পেয়েছেন ১ হাজার ২৭০ ভোট। এ আসনে পোস্টাল ভোটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং জুলাই সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবসমূহের সম্মতিসূচক প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮১৩টি। এখানে ‘না’ ভোট দিয়েছেন ৬৯ হাজার ৬৯৪ জন ভোটার। এখানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কয়ছর এম আহমদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। কয়ছর এম আহমদ (ধানের শীষ) প্রতীকে ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (তালা) প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ২২৬ ভোট। সর্বমোট প্রদত্ত ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩৯২টি। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৪৪.০৭%।
পোস্টাল ভোটে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের কয়ছর এম আহমদ পেয়েছেন ৬৪৭ ভোট। তালা প্রতীকের মোঃ আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ২৪২ ভোট। এ আসনেও পোস্টাল ভোটে ধানের শীষ এগিয়ে রয়েছে। এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৯৩ হাজার ২৭৪ জন। ‘না’ ভোট পড়েছে ৪৫ হাজার ৪১৯টি। এখানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ জয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ২২৬ ভোট।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল। ১১৬টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী (ধানের শীষ) প্রতীকে তিনি পেয়েছেন মোট ৯৮ হাজার ৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট মোঃ সামছ উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩৫ ভোট। নূরুল ইসলাম নূরুল ২২ হাজার ৩৫৭ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।
এই আসনে এবার মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ ৭২ হাজার ১৮৫ জন। এরমধ্যে ২ লক্ষ ৯ হাজার ৫৫৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। যার মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লক্ষ ৩ হাজার ৫৮৮টি এবং বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৯৭০টি ভোট। এই আসনে ভোট প্রদানের হার ৫৬.৩০ শতাংশ।
পোস্টাল ভোটে এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মোঃ সামছ উদ্দিন পেয়েছেন ১ হাজার ৩৭০ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের নূরুল ইসলাম পেয়েছেন ৬৮৮ ভোট। এ আসনে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮২৯টি। ‘না’ ভোট দিয়েছেন ৫৩ হাজার ৯১৮ জন। এই আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী নূরুল ইসলাম। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শামস উদ্দীন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩৬ ভোট।
জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং জুলাই সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবসমূহের সম্মতিসূচক প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪টি হ্যাঁ এবং একটি আসনে না ভোট জয়ী হয়েছে। জেলায় বাতিল হয়েছে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ১৮৫ ভোট। ৫টি আসনের মধ্যে সুনামগঞ্জ-২ আসনে গণভোটে জয়ী হয়েছে ‘না’। এদিকে সুনামগঞ্জ-১ আসনে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৯ হাজার ৩৯৪ জন ভোটারের ভোট বাতিল হয়েছে।
গণভোটে সুনামগঞ্জে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ১০ লক্ষ ৬৫ হাজার ৮১৯ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ৮ লক্ষ ৯১ হাজার ৬৩৪ টি। ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন মোট ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার ২৫০ জন, ‘না’ এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৩৮৪ জন এবং বাতিল হয়েছে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ১৮৫ ভোট। জেলার ৫ টি আসনের মধ্যে সুনামগঞ্জ-২ আসনে গণভোটে জয়ী হয়েছে ‘না’।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার স্বাক্ষরিত ফলাফলে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।