শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক: অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৭৯৮-৬৭৬৩০১
সংবাদ শিরোনাম :
স্বাধীনতার পর এই প্রথম সুনামগঞ্জের ৫টি আসনেই বিএনপির ভূমিধস জয় দিরাইয়ে বিয়ের দাওয়াতের জেরে নিহত ১ সুনামগঞ্জ-২ আসনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন: এগিয়ে ধানের শীষ ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত সুনামগঞ্জ দিরাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়লেও অক্ষত কুরআন শরীফ সবাহী মক্তব ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মক্তব প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত দিরাইয়ে নিজ জমিতে কাজ করতে দিচ্ছে না ভূমি খেকো একটি চক্র সুনামগঞ্জের তিনটিতে দ্বিমুখি ও দুইটিতে ত্রিমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা শহীদ মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর নতুন ঘর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে দুআ মাহফিল অনুষ্ঠিত একই মঞ্চে ধানের শীষের সব প্রার্থী: বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করবে মাঠ পর্যায়ে

দিরাইয়ে নিজ জমিতে কাজ করতে দিচ্ছে না ভূমি খেকো একটি চক্র

amarsurma.com
দিরাইয়ে নিজ জমিতে কাজ করতে দিচ্ছে না ভূমি খেকো একটি চক্র

মুহাম্মদ আব্দুল বাছির সরদার:
সরকার কর্তৃক বন্দোবস্ত দেয়া জমিকে নিজেদের দাবি করে মূল মালিককে কাজ করতে দিচ্ছে না একটি ভূমি খেকো চক্র। এ ঘটনায় ভুক্তভোগিরা একাধিকবার প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়ে দরখাস্ত করার পরও কোনো সুরাহা পাচ্ছে না। ভূমি খেকো চক্রটি একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সর্বশেষ দিরাই থানা পুলিশের সহায়তায় উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ভুক্তভোগিদের জায়গা চিহ্নিত করে দিয়ে আসেন।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দেয়া একাধিক অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের উত্তর ও পূর্বপাড়ে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন ব্যক্তিকে জমি বন্দোবস্ত দিয়েছেন। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী একটি ভূমি খেকো চক্র উক্ত জমিগুলো তাদের গ্রামের দাবি করে মূল মালিক জমি গ্রহীতাকে দখল ও তাতে কাজ করতে দিচ্ছে না। এ নিয়ে জমি গ্রহীতারা অসহায় হয়ে অবশেষে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরকারীরা হলেন দিরাই পৌরসভার ঘাগটিয়া গ্রামের মৃত এহতে শামুল হকের ছেলে সাইফুল ইসলাম, আনোয়ারপুর গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে আসকর আলী, মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মানিক মিয়া, মৃত মনসুর উদ্দিনের ছেলে ফয়জুর রহমান, দোওজ গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে জাকির হোসেন, চিতলিয়া গ্রামের মৃত করুণা সিন্ধু দামের পুত্র সমীর কুমার দাস।
জেলা প্রশাসক বরাবরে দেয়া অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, চিতলিয়া গ্রামের গবিন্দ দাসের পুত্র গণেন্দ্র দাস, মৃত ভীমলাল দাসের পুত্র কানু দাস, মৃত হরকুমার দাসের পুত্র স্বপন দাস, মৃত রাজকুমার দাসের পুত্র নিকলেশ দাস, মৃত দুর্গাচরণ দাসের পুত্র কালীচরণ দাস, মৃত সদুচরণ দাসের পুত্র সত্যেন্দ্র দাস, মৃত গোপীমোহন দাসের পুত্র সেতু দাস, মৃত আবু দাসের পুত্র সুতলাল দাস, সেতু দাসের (জামাই সেতু) পুত্র মহিতোষ দাস, কেতকী দাসের পুত্র দেবব্রত দাস, রাজেন্দ্র দাসের পুত্র বেনু দাস গ্রামের এই ভূমি খেকো চক্রটিকে বিভিন্নভাবে উসকানী ও শেল্টার দিয়ে থাকে বলে উল্লেখ করা হয়। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আস্কারায় এই চক্রটি গ্রামে নিজস্ব আইন লালন করে আসছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে নিজের পিতার নামে প্রাপ্ত সরকার থেকে বন্দোবস্তের জায়গায় ঘর তুলতে গেলে বাধার সম্মুখিন হয় সাইফুল ইসলাম নামে একজন। তার জমিতে রাখা বাঁশ, টিন, কুদাল, খুন্তি ও ঘর বানানোর অন্যান্য সরঞ্জাম এবং সেখানে ভিটের জন্য কাটা মাটিও গ্রামের লোকজন গায়েব করার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী জানান, প্রায় ৩ বছর আগে তার নিজের সাত কেদার জমি হালচাষ করার পর তিনি রোপনের আগেই রাতে গ্রামের লোকজন ধানের চারা রোপন করে। পরবর্তীতে বৈশাখে ধান পাকার পর গ্রামবাসি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে ভোরে সব জমির ধান কেটে নিয়ে গায়েব করে দেয়। তারা ভয়ে সেদিন এই অমানবিক কাজে বাধা দিতে পারেন নি বলে জানা গেছে। এছাড়া গ্রামের এই চক্রটি পরবর্তী বছর জমিতে চাষ করতে গেলে পাওয়ার টিলারটি জোরপূর্বক তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। এ নিয়ে দিরাই থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের সহায়তায় পাওয়ার টিলারটি উদ্ধার করা হয় বলেও জানান ভুক্তভোগী।
সূত্র মতে, সরমঙ্গল মৌজার ৮১নং জেএলস্থ ১৭৭৮ খতিয়ানের ৪৫নং দাগের দেড় একর ভূমি মৃত এহতে শামুল হকের নামে, একই জেএলস্থ ২ একর জমি মৃত মনসুর উদ্দিনের নামে, চিতলিয়া মৌজার ৩৭নং জেএলস্থ ৫০৯নং খতিয়ানের ১২৫৫নং দাগের দেড় একর জমি মৃত হোসেন আলীর নামে, ৩৭নং জেএলস্থ দেড় একর জমি মৃত আব্দুস সালামের নামে, একই জেএলস্থ ৮৮নং খতিয়ানের ১১৫৮নং দাগের দেড় একর জমি মৃত ইদ্রিস আলীর নামে ও ১২৫৪নং দাগের দেড় একর জমি মৃত করুণা সিন্ধু দাসের নামে সরকার বন্দোবস্ত দেয়। এসব জমির বন্দোবস্ত গ্রহীতার প্রকৃত উত্তরাধিকারীরা দখল ও কাজ করতে গেলে চিতলিয়া গ্রামের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী গ্রামের দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছিল। এছাড়াও আরো অনেকের ক্রয়কৃত এবং রেকর্ডীয় জমিও গ্রামের এই প্রভাবশালী চক্রটি দখল করে আছে। ভুক্তভোগীদের একটি চাওয়া, সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা চিতলিয়া গ্রামের এই চক্রটির হাত থেকে প্রকৃত মালিকদের জমি উদ্ধার করে শান্তিপূর্ণ কাজের ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেন।
জানতে চাইলে চিতলিয়া গ্রামের মৃত ভীমলাল দাসের পুত্র কানু দাস (৫৫) অভিযোগকৃত ভূমি গ্রামের দাবি করে জানান, এই জায়গাগুলো নিয়ে মামলা চলছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার আগেই সরকারি সার্ভেয়ার কিভাবে সীমানা নির্ধারণ করলেন, তা আমি জানি না।
একই গ্রামের গবিন্দ দাসের পুত্র গণেন্দ্র দাস (৫৪) এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা উভয়পক্ষ দিরাই থানায় বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যদি তাদের জমি থাকে, তবে তারা সার্ভেয়ার নিয়ে সীমানা নির্ধারণ করুক।
দিরাই উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শাহ আলম জানান, সরকারের ১নং খতিয়ানের জায়গা মূলত জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকে। এটির মালিক সরকার হলেও জেলা প্রশাসক এই জমির দেখভাল করেন। দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের সরমঙ্গল ও চিতলিয়া মৌজার কিছু জায়গা কয়েকজনকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছিল। এ জায়গা দীর্ঘদিন ধরে চিতলিয়া গ্রামের একটি গ্রুপ বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছে। তিনি আরো বলেন, এ জায়গাগুলো প্রকৃত মালিক ব্যবহার কিংবা দখল করতে না পারায় অবশেষে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা সীমানা চিহ্নিত করে দিয়ে এসেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রামবাসির বলতে কোন ভূমি নেই, হয়তো কারো মালিকানা হবে, নয়তে সরকার মালিক হবে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেও জেলা প্রশাসনের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্জীব সরকার জানান, আমরা বন্দোবস্ত পাওয়া উপকার ভোগীদের জায়গা পরিমাপ করে দিয়েছি। এখন যদি কেউ কোন ধরণের সমস্যা সৃষ্টি করে কিংবা কাজে বাধা দেয়, তবে উপকার ভোগীরা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে প্রতিকার চাইতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com