শনিবার, ১৩ Jul ২০২৪, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক: অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৭৯৮-৬৭৬৩০১
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে হিজড়াদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে হিজড়াদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, বিশেষ প্রতিবেদক (সুনামগঞ্জ): দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হিজড়াদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকার লোকজন। হিজড়াদের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে ব্যবসায়ি ও জনসাধারণসহ এলাকার যুব সমাজ অত্যাচারে অতিষ্ট। এদের চাঁদার পরিমাণ নির্ধারিত না থাকায় লোকজনের কাছ থেকে মনগড়া ও অনৈতিকভাবে রঙ্গঢঙ্গ দেখিয়ে তাদের মন মতো চাঁদা আদায় করতে না পারলে জনসম্মুখে পুরুষ, নারী, শিশু না দেখেই অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু করে দেয়। দাবিকৃত চাঁদার টাকা কম দিলেই অত্যাচারসহ গায়ে হাত তুলতে দ্বিধাবোধ করেনা। এভাবে বাধ্য হয়েই এদের চাহিদা মত চাঁদা দিতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিভিন্ন গ্র“পে ভাগ হয়ে হিজরারা চাঁদাবাজীতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বরের গাড়ি দেখলেই মহাসড়কে হিজরারা অবরোধ করে বসে। তাদের কথা মতো চাঁদা না দিলে শুরু হয় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি। যার ফলে মানসম্মানের ভয়ে কথা মতো টাকা দিতে হয় বাধ্য হয়েই। উপজেলার প্রত্যেক কমিউনিটি সেন্টার শ্যামলী, জরিনা, প্রিয়া, তানিয়া নামে হিজড়াদের দল চাঁদার জন্য তারা চিৎকার-চেঁচামেচি, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও খিস্তি খেউর করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। প্রয়োজনে তাদের কেউ কেউ বিবস্ত্র হয় এবং এই কৌশলে টার্গেটকে নাকাল করে টাকা নিয়ে যায়। ইদানিং তাদের মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন শান্তিগঞ্জ বাজার, পাগলা বাজার, পাথারিয়া বাজার, পাঁচগাঁও বাজারসহ সকল কমিউনিটি সেন্টারে আসা বর-কনে পক্ষের লোকজন।
ভুক্তভোগিরা বলছেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করতে পারছি না। বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে মামলা-মোকদ্দমা করবো এটা ভাবতেও পারছিনা, যে কারণে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ব্যবসায়িরা আরও বলেন, হিজড়াদের টাকা তোলার বিষয়টিকে অনেকে স্বাভাবিক মনে করে থাকেন। এটি নিয়ে কোনো মামলা বা জিডি করা হয়না। মানুষ সাধ্যমতো তাদের টাকা ও বিভিন্ন মালামাল দিয়ে তাদের সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু ২ বছরে হিজড়াদের আচরণ বদলে গেছে। আগের সাহায্য চেয়ে টাকা তোলা এখন জবরদস্তি চাঁদা আদায়ে পরিণত হয়েছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই মোঃ মাজহারুল ইসলাম বলেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে কেউ অভিযোগ করেন না। অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই হিজড়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com