শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪, ১১:৪২ অপরাহ্ন
সামিউল কবির: দক্ষিণ সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যাদের নিয়মিত পদচারনা তাদের অন্যতম হলেন রুবিনা বেগম। আর এ কারনেই তিানি খুব অল্প সময়ের ভেতর প্রচুর সুখ্যাতি অর্জন করেছেন, পেয়েছেন প্রচুর মানুষের হৃদয় নিঙড়ানো ভালবাসা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে রয়েছে প্রচুর সুখ্যাতি। উপজেলার কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁক গলেও যিনি নারী নেতৃত্ব তৈরি, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে এগিয়ে যাবার সাহস যোগাচ্ছেন। এমন রক্ষণশীল পরিবেশকে জয় করে ছুটে চলছেন একজন রুবিনা বেগম, আজকাল যা এমন মানুষ পাওয়াটা বিরল! এ পথচলাটা মোটেই সহজ ছিলোনা রুবিনা বেগমের জন্য, সালটা ২০১৪ সমগ্র উপজেলায় তখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে, আর তখনেই ঘোষনা দিলেন যে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনি লড়বেন, যেই কথা সেই কাজ মনোয়ন দাখিল করলেন নির্বাচনও করলেন আর প্রায় পাঁচজন নারী প্রার্থীর সাথে চরম প্রতিদন্ধীতা করে বিজয় ছিনিয়ে আনেন, তিনি হলেন রুবিনা বেগম! অথচ নির্বাচনের আগে কয়জনেই বা চিনতো আজকের রুবিনা বেগম কে? একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি জানেন তার সীমাবদ্ধতার কথা, তারপরেও থেমে নেই গরীব মানুষের উন্নয়নের জন্য তার ভালবাসা! দাওয়াত পেলে কারো বিয়েতে উপস্থিত হওয়া বা করো বিয়েতে অার্থিক অনুদান প্রদান, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার সরব উপস্থিতি যেনো এক বড় নারীনেত্রীর আভাসেই আমাদের মনে করিয়ে দেয়। উপজেলার প্রতিটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সকলের প্রিয়মুখ আজ রুবিনা বেগম, সরলতা, হাসিমাখা মুখের, প্রিয় মূখখানি দিয়ে জয় করেছেন সবার হৃদয়। কে এই আজকের রুবিনা বেগম? ছাতক উপজেলার শক্তিয়ারগাও গ্রামের এক সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম, ছয় বোন আর তিন ভাইয়ের সংসারে রুবিনা বেগম ছিলেন সবার বড়, তাই এসএসসির পর তার লেখাপড়া আর এগোয়নি, পরে মা-বাবার সিদ্ধান্ত মতে ২০০১ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জয়কলস নিবাসী রোকন উদ্দিনের সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্বামী রোকন ও এক পুত্র তারেককে নিয়েই তার ছোট্র সুখী পরিবার। রাজনৈতিক পরিচয়ে উপজেলা যুবলীগের মহিলা সম্পাদীকা, আর একজন সুযোগ্য মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন রুবিনা। উল্লেখযোগ্য যে, বিষয়টা রুবিনা বেগম ছোটকাল থেকেই পারিবারিকভাবে যে সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে উঠেছেন তা ধরে রাখারও চেষ্টা করছেন। যেমন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একজন মানুষ হিসেবে তার স্বপ্ন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ একদিন রাজাকার মুক্ত হবে, কোনো মানুষ আর না খেয়ে থাকবেনা। একজন রুবিনা বেগম ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন, হয়তো মানুষের ভালবাসা পেলে তিনি আর দুর এগিয়ে যাবেন, যতদুর জানা যায় এই রুবিনা বেগম হারিয়ে যেতে আসেন নি, যেমনভাবে হারিয়ে গিয়েছিলেন প্রথম মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেলিনা আক্তার! রুবিনার জনপ্রিয়তা ও তার স্বপ্নেই জানান দেয় তিনি তার মাইল ষ্টোনের দিকেই হাটছেন। সবার সাথে মিশুক প্রকৃতির এই নারী প্রতিনিধির প্রিয় রং হলুদ আর সাদা তার অবসর কাটে গান শুনে ও বই পড়ে। ভ্রমন সবসময় প্রিয় যার কাছে ইতমধ্যেই দেশের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য জেলা ভ্রমন করে এসেছেন।