শনিবার, ২০ Jun ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক: অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৭৯৮-৬৭৬৩০১
সংবাদ শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে জলাবদ্ধতায় এবার ক্ষতির পরিমাণ সাড়ে তিনশ কোটি টাকা সুনামগঞ্জে এবার ঈদুল আযহায় পৌণে চারশ কোটি টাকার পশু বিক্রির রেকর্ড মাওলানা শুয়াইর আহমদ দিরাই মাদরাসার মুহতামিম নির্বাচিত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চালু হলো আইসিইউ সেবা দিরাইয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ আসামি আটক সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র জমিয়ত শাখার কাউন্সিল অধিবেশন সম্পন্ন সুনামগঞ্জে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে হতাহত ২০ ঈদের দিনসহ আগামী পাঁচ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে? জেলা ছাত্র জমিয়তের কঠোর হুশিয়ারী: শহীদ মুশতাক গাজিনগরী হত্যা মামলার ধীরগতিতে প্রশাসনের উদাসিনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে প্রায় চারশ কোটি টাকার লেনদেনের আশাবাদ: সুনামগঞ্জে কুরবাণীর জন্য প্রস্তুত ৫৩ হাজারের বেশি দেশীয় গবাদী পশু

এক রাজার একশ’ রানী

we132আমার সুরমা ডটকম ডেক্স : বিবাহ প্রথা পৃথিবীর ইতিহাসে বেশ প্রাচীন রীতি। প্রায় প্রতিটি ধর্ম এবং গোত্রেই বিয়ের বন্দোবস্ত রয়েছে। স্থান কালভেদে অনুষ্ঠান রীতির পার্থক্য হলেও বিয়ের মূল ব্যাপারটি সেই নারী এবং নরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা বিরাজমান থাকার কারণে অধিকাংশ সমাজেই পুরুষ বহুবিবাহ করতে পারে এবং সে তুলনায় খুব কম সমাজেই নারীর বহুবিবাহ করার অধিকার থাকে। আফ্রিকার এক প্রাচীন জনপদের নাম ক্যামেরুন। দেশটির রাজা হলেন আবুম্বি দ্বিতীয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশটির একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে প্রজাদের শাসন করে আসছেন। কিন্তু এই আধিপত্যবাদী আচরণের অন্তরালে রাজা আবুম্বি দ্বিতীয় একের পর এক বিয়ে করে চলেছেন। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী এখন আবুম্বির রয়েছে একশ’ রানী। তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়, আবুম্বি রাজবংশের নিয়মানুযায়ী আবুম্বির মৃত্যুর পর যিনি রাজা হবেন তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে এই একশ’ রানীকে পাবেন এবং পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের রানী সংখ্যা বাড়াতে পারবেন।

অবশ্য রাজার এই বহুবিবাহ বিষয়টিকে দেশবাসী অতটা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে না। এমনকি রাজার সন্তান যুবরাজ নিকসনের কাছেও রয়েছে বাবার বহুবিবাহের উপযুক্ত ব্যাখ্যা। যুবরাজের মতে, এই রাজবংশের উন্নতি এবং ভিতের পেছনে এ রকম বহু রানীর অবদান রয়েছে। একজন রাজার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে গেলে রানীদের ভূমিকা থাকে বলেও যুবরাজের বিশ্বাস। এমনকি রানী কুন্সট্যান্সও মনে করেন যে, ‘প্রতিটি সফল মানুষের পেছনে নারীর অবদান থাকে।’ বহুবিবাহের এই চিত্র শুধু যে ক্যামেরুনেই বিদ্যমান তা নয়। গোটা আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই রয়েছে বহুবিবাহের রীতি। আফ্রিকায় খ্রিস্টধর্ম প্রচার পাওয়ার পর বহুবিবাহ কিছুটা কমলেও কিছু দেশে আজও বহুবিবাহ স্বীকৃত এবং সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঔপনিবেশিক আমলে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য মিলিতভাবে আফ্রিকার সাধারণ মানুষের মূল্যবোধ পরিবর্তন করে ইউরোপ ঘেঁষা পরিস্থিতি তৈরির জন্য কাজ করেছে। তৎকালীন সময়ে, আফ্রিকার আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর সংস্কৃতি হুমকির মুখে ফেলায় ফ্রান্স এবং ব্রিটিশদের সঙ্গে আদিবাসীদের অনেকবার সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

‘আমার কাজ হলো শুধু ভালোভাবে মিশ্রণ করা। যাতে আমাদের সংস্কৃতিকে ধ্বংস না করে উন্নতির হাত ধরে আধুনিকতার দিকে আমরা যেতে পারি। সংস্কৃতি ব্যতীত আপনি কোনো মানুষই নন, একজন পশু মাত্র। আর এ কারণেই সংস্কৃতি রক্ষার প্রয়োজন হয়।’ বলেন, রাজা আবুম্বি দ্বিতীয়। মহাদেশ হিসেবে আফ্রিকাতে বহুবিবাহ মূলত রাজা বা নেতাদের হাত ধরেই বিস্তৃত হচ্ছে। ছোট গোত্রগুলোর প্রধানদের মেয়েদের বিয়ে করে ভূমির অধিকার বাড়ানোর জন্যই মূলত আফ্রিকার রাজারা বহুবিবাহের দিকে যায়। পাশাপাশি রাজার ছেলে যুবরাজ উত্তরাধিকারসূত্রে রানীর অধিকার প্রাপ্তির বিষয়টিও নির্ধারণ করা হয় রাজদণ্ড দ্বারা। কারণ তাদের বিশ্বাস মতে, রাজা হিসেবে পিতা তার সন্তানের জন্য মৃত্যুর আগে ক্ষমতা আর নারী ছাড়া আর কিছু রেখে যাওয়ার অধিকার রাখেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com